নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ এএম
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ‘মিজানের ভাতের হোটেল’ আবারও উচ্ছেদ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফুটপাতে চুলা জ্বালিয়ে রান্নার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে রান্না করা খাবারসহ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ফুটপাতে স্তূপ করে রাখা কাঠের আসবাবপত্র ভেঙে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়।
ডিএনসিসির অঞ্চল-৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী। আগারগাঁও থেকে শুরু হয়ে শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সিটি করপোরেশনের সূত্রে জানা যায়, আগের উচ্ছেদের পর এবার মিজানের কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা ছিল না। গ্রাহকদের বসার জন্য চেয়ার-টেবিলও আগে থেকেই সরানো ছিল। তবে পথচারীদের চলাচলের ফুটপাতে উন্মুক্ত চুলা বসিয়ে রান্নাবান্না চলছিল এবং রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পুরোনো আসবাবপত্র জড়ো করে রাখা হয়েছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে খাবার ও তৈজসপত্র সরিয়ে নেওয়া হলে অবশিষ্ট কাঠ ও অন্যান্য জঞ্জাল অপসারণ করে পথচারীদের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করা হয়।
প্রায় এক বছর আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় আসেন মিজান। ফুটপাতে রান্না করে মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংস ও ভাত বিক্রি করতেন তিনি। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কম দামে খাবার পরিবেশন করায় অল্প সময়ের মধ্যেই তার ভ্রাম্যমাণ ভাতের হোটেলে ভিড় জমাতে শুরু করেন দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষ।
গত ১৬ আগস্ট আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় প্রথম দফায় মিজানের দোকানসহ সড়কের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ডিএনসিসি। তারও আগে, ১০ আগস্ট অবৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও ফুটপাতে দোকান চালু করার ঘোষণা দেন।
এমআর