Dhaka Mail Logo

জাতীয়

দ্বিকক্ষ সংসদ নিয়ে বিভিন্ন মত, জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এগোবে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মতামত এলেও জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় সনদের ভিত্তিতেই এগোতে চায় সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। তবে সংসদে এ বিষয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনার সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু একটি একক রাষ্ট্র, তাই দেশের জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রশ্ন বৈঠকে উঠেছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় কমিটি সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই কাজ করতে চায়। সংসদে এ বিষয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে সেটি বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের কাছ থেকেও মতামত নেওয়া হয়। এর আগে রোববার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিটি। দুই দিনে পাওয়া লিখিত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে কমিটি।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিকেন্দ্রীকরণ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত এসেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান কমিটির সভাপতি। তাঁর ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাবের পাশাপাশি ভিন্নমতও রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কোন ধাপ অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে একাধিক বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য উপযুক্ত যে প্রক্রিয়া সংসদ বিবেচনা করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে। সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক করতে বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। কোনো দলের ভিন্নমত বা নতুন প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ সময় ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে মতামত এসেছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, কোনো ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। আবার ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের সুযোগ ঠেকাতে ১০ বছরের সীমা রাখার পক্ষেও মত এসেছে।

আরও পড়ুন

‘জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন’

সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে জ্বালানির মূল্য সহনীয় রাখার সুপারিশ

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, সেই অবস্থান থেকে তারা এখনো সরে আসেনি। তবে জনগণ কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চাইলে সেই সুযোগ থাকা উচিত—এমন মতও বৈঠকে এসেছে।

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব এবং গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিটি। জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং এর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল আনার প্রক্রিয়া এগোবে।

কমিটির সভাপতি আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য এবং জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করবে কমিটি। তাঁর মতে, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের ভিত্তি ছিল ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। তবে অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন বর্তমানে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ নয়।

সংবিধান সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক সংশোধনী প্রণয়নই কমিটির লক্ষ্য বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

জেবি