নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
রাজধানীর ওয়ারীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঢাকা খ্রিষ্টিয়ান কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণে ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। একইসঙ্গে কবরস্থানটির প্রাচীন সমাধি সংরক্ষণ এবং রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, আলোকায়ন ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা খ্রিষ্টিয়ান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধিগুলো সংরক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, কবরস্থানটির শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসসিসির তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থান সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি আদি ঢাকার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও রূপ ফিরিয়ে আনার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই আজকের এই মেগাসিটি গড়ে উঠেছে। এর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অতীতের কোনো নিদর্শন আর নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’
ওয়ারীর পুরনো ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, একসময় নদীবেষ্টিত যোগাযোগব্যবস্থা ও নগর সুবিধার কারণে ওয়ারী ঢাকার অন্যতম বনেদি ও অভিজাত এলাকা ছিল। অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তি সেখানে বসবাস করতেন। পাশের বলধা গার্ডেনসহ পুরো এলাকার পরিবেশ আগের উন্নত ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নাগরিকদের সমান অধিকারের বিষয়েও কথা বলেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু’ বলতে কোনো শব্দ নেই; আমরা সবাই পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং এ দেশের সমান নাগরিক। আমার যে অধিকার, আমার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। আমরা কোনো বিভেদ চাই না; সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।’
আদি ঢাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এলাকার রাস্তা সরু হলেও সেগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা হবে এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এমএইচ/এএইচ