নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
ঢাকার দোহার উপজেলায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন মামলার আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতদের স্বজনরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল চাকরি দেওয়ার কথা বলে একাধিক হত্যা মামলার আসামি রাজন খান, পিতা-শাহজাহান খান, সাজ্জাদ মোল্লা, চঞ্চল মোল্লা, সোহাগ বেপারী, মারুফ, এমদাদুল হক, সাদ্দাম বেপারী, সেলিম বেপারী, মনির হোসেন, কাউছার মোল্লাসহ আরও কয়েকজন মিলে সাইদুল, মিজান ও সোহেলকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে হাত-পা বেঁধে এবং পরে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিহতদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে সাইদুলের মা রাজিয়া বেগম বাদী হয়ে দোহার থানায় এজাহার দেন।
বাদীর অভিযোগ, তিন মাস পর থানায় এজাহার দিলেও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আমলে প্রভাবশালীদের কারণে মামলাটি গুরুত্ব পায়নি। পরে আদালতে প্রথমে দুজনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করা হয়। হত্যা মামলাটি তদন্তে আরও আটজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১০ আসামির আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়।
মামলার এজাহারে নাম থাকা কয়েকজন আসামি বিভিন্ন সময় আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে নিহতের পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাজ্জাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লাসহ কয়েকজন ১৬৪ ধারায় হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। সোহেল ও সাইদুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ধামরাই এলাকায় মরদেহ ফেলার জন্য সেসময় খুনিরা পুলিশকে ম্যানেজ করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
বক্তারা বলেন, খুনিদের স্বীকারোক্তির পরও পুলিশ দীর্ঘদিন পর্যন্ত মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে পারেনি। ১৬৪ ধারায় গ্রেফতার আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের মোট এলাকার কর্মকর্তার কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেন।
এরপর নিহত সাইদুলের মা রাজিয়া বেগম আদালতে একটি নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। পরে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
বর্তমানে মামলাটি পিবিআইতে তদন্তাধীন। কয়েক দিন আগে মূল হত্যাকারী রাজন খানকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পিবিআই পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।
মানববন্ধনে নিহতদের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, খুনিরা যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। একইসঙ্গে মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এম/এএইচ