নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৫টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খাল রয়েছে। খাল দখল ঠেকানোর পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচল ও উন্মুক্ত বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডিএসসিসির ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দীপাড়া এলাকায় জিরানী খাল পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৬টি এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৯টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে করে পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি অবৈধ দখল রোধ হবে এবং নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত বিনোদন ও চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ কমাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মহানগরীর পয়ঃবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে শোধন করে নদীতে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
মীর শাহে আলম বলেন, আমরা একদিনেই দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। বাস্তবতাকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চাই।
তবে নদী ও খাল রক্ষা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে এ কাজে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শন করা জিরানী খালের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪ থেকে ২৫ মিটার। খালটি ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হচ্ছে।
৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ সরকার এবং ৩০ শতাংশ ডিএসসিসি বহন করছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
খালভিত্তিক হিসাবে মান্ডা খালের কাজ এগিয়েছে ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ০৫ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণের পাশাপাশি সীমানা নির্ধারণ এবং স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হবে। এ ছাড়া ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। করা হবে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়ন। পরিবেশদূষণ ঠেকাতে নির্মাণ করা হবে আটটি ইটিপি।

প্রকল্পের আওতায় অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ড অনুসারে ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী এক হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জটিলতা, অচল কালভার্ট অপসারণ, সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এসব এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এফএ