নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
পরিবেশ, নদী ও খালের ক্ষতি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তিনি বলেন, যারা নদী দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চঘাট থেকে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দখল-দূষণের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), এএলআরডি, নাগরিক উদ্যোগসহ পরিবেশ ও নদী নিয়ে কাজ করা ২৩টি সংগঠন যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, বাংলাদেশের প্রাণ হচ্ছে নদী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রে নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সেই নদী আজ হুমকির মুখে। যারা নদীকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করছে, প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা উচিত। নদী দখলদার ও দূষণকারীদের তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নিজের নির্বাচনি এলাকার উদাহরণ দিয়ে এমপি খোকন বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অপরাধীদের নাম থানায় লিপিবদ্ধ থাকে, পরিবেশ ও নদী-খালের ক্ষতি করা ব্যক্তিদেরও একইভাবে চিহ্নিত করা উচিত। যারা খাল ভরাট করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
তিনি আরও বলেন, নদী খনন ও বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। নদী রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। কৃষি ও দেশের অন্যান্য কাজে নদী-নালা, খাল-বিলের পানি ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেও কাজ করা প্রয়োজন।
নদী পরিদর্শন কর্মসূচিতে বাপার সহসভাপতি মহিদুল হক খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, কোষাধ্যক্ষ মো. আমিনূর রসুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, সিডাব্লিউএফের চেয়ারম্যান শাহ ইশরাত আজমেরী, এএলআরডির সানজিদা খাতুন রিপাসহ আয়োজক সংগঠনগুলোর নেতারা।
কর্মসূচি থেকে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর সীমানা পুনরায় জরিপ করে নদীভূমি দখলমুক্ত করা, শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্যের অবৈধ সংযোগ বন্ধ, শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার সার্বক্ষণিক চালু রাখা, দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়।
এএইচ/এএম