নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর সীমাহীন দখল ও দূষণ বন্ধে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), এএলআরডি, নাগরিক উদ্যোগ, বারসিকসহ পরিবেশ ও নদী রক্ষায় কাজ করা ২৩টি সংগঠন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চযোগে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দখল-দূষণের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. আলমগীর কবির, কর্মসূচিতে বাপার কোষাধ্যক্ষ মো. আমিনুর রসুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু ও হুমায়ুন কবির সুমন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, সিডব্লিউএফের চেয়ারম্যান শাহ ইশরাত আজমেরী, এএলআরডির সানজিদা খাতুন রিপাসহ আয়োজক সংগঠনগুলোর নেতারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, নদী রক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নদী রক্ষায় সুসংবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর সীমানা পুনরায় জরিপ করে নদীতীর দ্রুত দখলমুক্ত করা; নদীতে সরাসরি শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ফেলার অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা; সব শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোধনাগার সার্বক্ষণিক চালু রাখা এবং অনলাইন মনিটরিং নিশ্চিত করা; দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া; নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর মূল প্রবাহ ও জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া; বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর তলদেশ ও জীববৈচিত্র্যের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা এবং নদীতে প্লাস্টিক, পলিথিন, বাজারের বর্জ্য ও জাহাজের তেল-বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে নিয়ে সুসংবদ্ধ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, দেশের নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বন, হ্রদ ও পুকুরসহ প্রাকৃতিক সম্পদের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়াও দফাসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এএইচ/এফএ