Dhaka Mail Logo

জাতীয়

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র স্থায়ী সমাধান: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৬ এএম

দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময়। এক বুক আশা আর ভিটেমাটি হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল লাখ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিকতার খাতিরে সেদিন সীমান্ত খুলে দিলেও, এই বিপুল জনগোষ্ঠীর ভারে আজ রীতিমতো হাঁসফাঁস করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমন এক দমবন্ধ করা প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, যে সংকটের জন্ম মিয়ানমারে, তার সমাধানও সেখানেই হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক জোরালো ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দেন। বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার কথা।

ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুর বিস্তারিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জনবহুল বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।’

শুধুমাত্র প্রত্যাবাসনই নয়, যতদিন না এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধান হচ্ছে, ততদিন রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনেন তিনি। 

বিশ্ববিবেকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যও আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি এক মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।’

এসটি