জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে প্রাইভেটকারের চাপায় ফুটপাতে বসে বিশ্রামরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নিহতের ঘটনায় এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নাম আযান (১৭)।
পুলিশ জানিয়েছে, আযান গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশান জোনের এডিসি আমিনুল হক বাপ্পী ঢাকা মেইলকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পরে গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এডিসি জানান, আমরা প্রথমে চালককে ধরতে চেষ্টা করি, কিন্তু এ ঘটনায় ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা থাকায় তাকেই ধরা হয়েছে। আগামীকাল তাকে আদালতে পাঠানো হবে। আপাতত থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গাড়িটি ওই কিশোরের পরিবারের। ঘটনার সময় গাড়িটি সে-ই চালিয়েছে, যা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এসেছে। তবে চালক আকাশকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দ্রুতগতির একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার ফুটপাতে উঠে যায়। এ সময় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নেওয়া মেহেদী হাসান গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গাড়িতে থাকা কিশোর আযানকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর ফের তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর গাড়ি থেকে দুজন ব্যক্তি বেরিয়ে আসেন। চালকের পাশ থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর এবং অপর পাশ থেকে শার্ট পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি বের হন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা গাড়ির পাশে অবস্থান করেন।
এদিকে নিহত মেহেদী হাসানের ভাই মোক্তাদির ইসলাম মঙ্গলবার রাতে গুলশান থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কিশোরের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। তবে পুলিশ আযানকে গ্রেফতার করায় তার নামও মামলায় যুক্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
এমআইকে/এএইচ