নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা ঢাকায় একটি কার্যালয় খোলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে।
একইসঙ্গে বাংলাদেশে ই-কমার্স, অনলাইন ব্যবসা, শিক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ।
তিনি জানান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অন্য একটি জরুরি এনগেজমেন্টের কারণে তিনি যোগ দিতে পারেননি।
শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশে বিশাল সংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারী থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে মেটা ঢাকায় তাদের একটি ফোকাল পয়েন্ট বা প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপনে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতে যে পরিমাণ ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে, তুলনামূলক বিচারে বাংলাদেশে ব্যবহারকারীর উপস্থিতি তার চেয়েও জোরালো। মেটা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যালোচনা করে দেখবে, কীভাবে এবং ঠিক কখন ঢাকায় তাদের কার্যালয় চালু করা যায়।
বৈঠকে বাংলাদেশের নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং সার্বিক তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশের সামাজিক ও সামাজিক-মাধ্যমিক বাস্তবতায় কীভাবে ডিজিটাল হয়রানি মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে মেটা কীভাবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করতে পারে— তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পাশাপাশি, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা এবং ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসার প্রসার ঘটাতে কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করতে মেটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বের অধীনে প্রথম বাজেটে প্রযুক্তি খাত এবং ই-কমার্স প্রসারে যেসব অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, মেটার প্রতিনিধি দল সেটির প্রশংসা করেছে।
মেটা বাংলাদেশের উদ্যোগগুলোকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ টিমের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান শামা ওবায়েদ।
এএইচ