নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কিশোর গ্যাং লিডার ও বিভিন্ন অপরাধে শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’কে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানায়, শ্রাবণের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
গ্রেপফতারকৃত অন্য তিনজন হলেন- সিয়াম, দিপু ও কামরুজ্জামান।
এসআরবি জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ছয়টি লম্বা রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাসুদ পারভেজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শ্রাবণ ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত শ্রাবণ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় কিশোর ও উঠতি বয়সি তরুণদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ গ্যাং পরিচালনা করে আসছিলেন।
তার নেতৃত্বাধীন গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন। রূপগঞ্জে সক্রিয় দুটি প্রধান কিশোর গ্যাংয়ের একটি শ্রাবণ পরিচালনা করতেন। আরেকটি ‘নবী গ্রুপ’ নামে পরিচিত। গ্রেফতার এড়াতে শ্রাবণ এক জায়গায় স্থায়ীভাবে থাকতেন না। বিভিন্ন এলাকায় রাত কাটিয়ে আত্মগোপনে থাকতেন।
তিনি জানান, শ্রাবণ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেউ পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা করা হতো বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগের খবর পেলে বাদীর বাড়িতে গিয়ে তাণ্ডব চালানো এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে জখম করার অভিযোগও রয়েছে। একটি মামলার কারণে বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। আমেনা বেগম নামের এক নারী মামলা করায় তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদী ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে অনেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পেতেন না। সাম্প্রতিক সময়ে রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী রনিকে হত্যার ঘটনায় শ্রাবণ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর শ্রাবণের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বরের বহুল আলোচিত ‘নাদিম অপহরণ’ মামলায় শ্রাবণকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাসুদ পারভেজ আরও জানান, ২০২৪ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে শ্রাবণ গ্রেফতার হয়েছিলেন। প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মাস পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
একেএস/এএইচ