Dhaka Mail Logo

জাতীয়

হারানো পাসপোর্ট দ্বিতীয়বার ইস্যুতে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

হারানো, চুরি বা কোনো কারণে নষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃ ইস্যুর বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়মে পাসপোর্ট হারানো বা চুরি যাওয়ার পর পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে অনলাইনে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে মোট ১২টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইনে রিপোর্ট করতে হবে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে অধিদপ্তর পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদ করবে।

এ ছাড়া নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি দিয়েই পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর অধিদপ্তর ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

জিডি যাচাইয়ে যদি প্রমাণ হয় যে ভিসা পাওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া সম্ভব না হলে আগের পাসপোর্ট বাতিল (রিভোক) করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) তা হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ইন্টারপোলকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হবে।

বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।

নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে এর ডেটা পেজে পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি লেখা থাকবে। একই সঙ্গে ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের হারানো বা বাতিল হওয়ার তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।

পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়গত তথ্য, নাম, জন্মতারিখ, পিতার নাম ও মাতার নাম, সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে।

পরিপত্রে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা সমর্পণের ভিত্তিতে পুনঃইস্যু করা যাবে।

তবে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে গেলে এবং পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ প্রদর্শন করা সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

কোনো পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হিসেবে রিপোর্ট করার পর সেটি বাতিল করা হলে পরবর্তীতে পাওয়া গেলেও তা পুনরায় সক্রিয় করা বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না।

এ ধরনের পাসপোর্ট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকে অবহিত করতে হবে।

পাসপোর্ট হারানো বা চুরির ক্ষেত্রে জরিমানার বিষয়েও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি’র বাইরে অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না।

তবে পরবর্তীতে প্রত্যেকবার হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘটনায় নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, এ-সংক্রান্ত আগের সব পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে। এটি জারির তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখার স্মারক নম্বর ১১৯৭-এর মাধ্যমে এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

/এএস