ঢাকা মেইল ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম
করোনা মহামারিতে চাকরি হারিয়ে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং শুরু করেছিলেন ঢাকার আজিমপুরের মো. আলী হোসেন। কিন্তু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে আয় ও ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে এখন তার চোখেমুখে কেবল অনিশ্চয়তা। শুধু আলী হোসেন নন, বিশ্ববাজারের বৃদ্ধির অজুহাতে সরকার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে আরও ২০ টাকা বাড়ানোর পর দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মনে দানা বেঁধেছে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক। জীবনযাত্রার মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে—তবে কি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল?
সম্প্রতি ক্ষমতা গ্রহণ করা নতুন সরকারের সময়ে এ নিয়ে তৃতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এর প্রভাবে কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতে চেইন রিঅ্যাকশন বা বহুমুখী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম?
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যার চূড়ান্ত আঘাত আসে বাজারে নিত্যপণ্যের বর্ধিত দামের মাধ্যমে। এতে এমনিতেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে থাকা সাধারণ মানুষের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যাবে।
বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলামের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার তো খালি জিনিসের দামই বাড়ায়; আমরা কীভাবে বাঁচবো, সে কথা সরকার ভাবে? সরকারি চাকরিজীবীদের না হয় বেতন বাড়ছে, আমাদের বেতন কে বাঁড়াবে?’

এদিকে পরিবহন খাতের শ্রমিক ও মালিকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাকচালক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দুইদিন পরপরই তেলের দাম বাড়ায়, গ্যাসের দাম বাড়ে। তো সব টাকা যদি তেল-গ্যাসের পিছেই চলে যায়, তাহলে আমরা কি না খাইয়া থাকুম?’
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে বাধ্য হয়েই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, গত পাঁচ মাস ধরে দাম অপরিবর্তিত রাখায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ফলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে দাম কম থাকায় জ্বালানি পাচারের ঝুঁকি রোধেও এই সমন্বয় জরুরি ছিল বলে দাবি সরকারের।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কায় বাস-লঞ্চের ভাড়াসহ শাকসবজি ও চাল-ডালের দাম নতুন করে লাফিয়ে বাড়লে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা চরম কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং জোরদার করার এবং অযৌক্তিক উপায়ে দাম বাড়তে না দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবুও এ ধরনের নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় থেকেই গেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
এজেড