Dhaka Mail Logo

জাতীয়

হাসানাতের হুমকিতে টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ পিএম

দল ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর লোকজনের হুমকির পর ডিবি পরিচয়ে ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদারকে তুলে নেওয়া হয়; পরদিন তাকে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যা করা হয় বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক স্বজন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি দেন শাহ মো. বখতিয়ার। তিনি নিহত ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদারের ভগ্নিপতি এবং আগৈলঝাড়া থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। 

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। নিহত টিপু হাওলাদার ছিলেন আগৈলঝাড়া থানা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

জবানবন্দিতে শাহ বখতিয়ার বলেন, “২০১৫ সালে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। আমরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় আমাদের আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করি।”

তিনি অভিযোগ করেন, এরপর গোলাম মর্তুজা খান, আব্দুর রইস সেরনিয়াবাত, শাহ আলম ধলা, হুমায়ুন হাওলাদারসহ কয়েকজন তাদের নানাভাবে হুমকি দিতেন। বরিশালের বিভিন্ন কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ উদাহরণ টেনে তাদের ভয় দেখানো হতো। একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে তারা আত্মীয়দের বাসায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে বখতিয়ার বলেন, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে টিপু হাওলাদারকে তুলে নেওয়া হয়। বিষয়টি স্ত্রীর কাছে জানতে পেরে তিনি থানায় খোঁজ নিতে বলেন।

‘টিপুর স্ত্রী ও ছোট ভাই আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে তাদের গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে গেলে তারা জানান, টিপুকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি তাদের নেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সিদ্ধান্ত। তারা কোনো সাহায্য করতে পারবেন না’। জবানবন্দিতে বলেন এই সাক্ষী।

বখতিয়ারের দাবি, ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কে টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির মোল্লাকে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে টিপুর লাশ বাড়িতে নেওয়া হলে বখতিয়ার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুই বাড়ি এলে তোর অবস্থাও এমন হবে।’

সাক্ষীর ভাষ্য, পরে পত্রিকা ও স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন—উজিরপুর থানার তৎকালীন এএসআই জসিম এবং মাহাবুলকে ওই ‘ক্রসফায়ার’ ঘটানোর জন্য আনা হয়েছিল।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এই মামলার অন্যতম আসামি।

গত ১ এপ্রিল এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদার ও জাসাস নেতা কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহর নির্দেশে অধস্তন পুলিশ সদস্যরা ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের কাছে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে ওই দুজনকে গুলি করে হত্যা করে।

মামলার চার আসামির মধ্যে উজিরপুর থানার সাবেক দুই এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন বর্তমানে কারাগারে আছেন। আজকে সাক্ষ্যগ্রহণকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

তবে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক।

আরএনবি