Dhaka Mail Logo

জাতীয়

সাতক্ষীরা মডেলে উপকূলে নিরাপদ পানি নিশ্চিতের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় সাতক্ষীরায় পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত পানি ব্যবস্থাপনার মডেল দেশের অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগকে জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা ও জলবায়ু অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল কনক্লেভ অন ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিকিউরিটি ফর কোস্টাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূল, বিশেষ করে সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে নিরাপদ পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য, জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তায়।

এ সংকট মোকাবিলায় ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় ‘সাতক্ষীরা রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিস্টেমস পাইলট প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেভ দ্য চিলড্রেন কোরিয়ার অর্থায়ন ও সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে উত্তরণ।

প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি সৌরবিদ্যুৎচালিত রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি পন্ড স্যান্ড ফিল্টার পুনরুদ্ধার, ১০টি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব পানি অবকাঠামো পরিচালনায় কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও আয় মডেলও গড়ে তোলা হয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমানে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ পানির সেবা পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে ১৬ হাজারের বেশি শিশু।

S

দুর্যোগের সময়ও এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকার উদাহরণ তুলে ধরে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় পাঁচটি আরও প্ল্যান্টই জেনারেটরের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই এসব প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হয়।

কমিউনিটিভিত্তিক আয় মডেলের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি আরও প্ল্যান্ট থেকে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৪০ টাকা আয় হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে বলেও জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাইফুল্লাহ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির সংকট মানুষের স্বাস্থ্য ও সহনশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব রয়েছে।

সাতক্ষীরার আরও মডেলকে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত জলবায়ু অভিযোজনের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না; স্থানীয় মানুষকে সমাধানের কেন্দ্রে রাখলেই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।’

যথাযথ পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের মডেল সম্প্রসারণ করা গেলে উপকূলীয় মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের জন্য নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা একটি মৌলিক প্রয়োজন। পাইলট প্রকল্পটি দেখিয়েছে, স্থানীয় সরকার, কমিউনিটি ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসঙ্গে কাজ করে কীভাবে এ সংকট মোকাবিলা করতে পারে।

তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এসব সমাধানের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার সংযোগ তৈরি করা গেলে উপকূলীয় মানুষের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ পানির সেবা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

কনক্লেভে সাতক্ষীরার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের পানি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সরকারি ও কারিগরি অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনায় নারীর নেতৃত্ব ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এমএইচ/এএইচ