১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে সন্ধ্যার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এনে ভর্তি করিয়েছেন।
দগ্ধদের মধ্যে সৌদি আরব ফেরত এক যুবকসহ চারজনের শরীরের ৩৫ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- সিদ্দিক বেপারী (৬০), তার ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) ও ভাগনি তানিয়া আক্তার (২০)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ পাঁচজনই শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক ভিটায় পাশাপাশি বসবাস করেন। রাজিব একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত। আরিফুর রহমান ধলু ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার একটি উইমেন্স কলেজের স্নাতক (অনার্স) শ্রেণির শিক্ষার্থী।
দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমে থাকা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়। তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বললে সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরবে থাকা তার ভাই ইমনকে জানান। পরে খবর পেয়ে ইমন শুক্রবারই দেশে ফিরে আসেন।
সোনিয়া আক্তারের ভাষ্য, শনিবার বিকেলে ইমন পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমিও মরব, তোদেরকেও মারব।’ এরপর তিনি নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় কক্ষে থাকা অন্যরাও আগুনে দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে সূত্রাপুর এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুর রহমানের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ইমন, তানিয়া, সিদ্দিক ও রাজিবকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। আর আরিফুর রহমানকে জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এমএমআর/এএইচ