Dhaka Mail Logo

জাতীয়

চুরি ও নারীকে হয়রানির অভিযোগে ইসির এক কর্মচারীকে লঘুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

অফিসের টাকা চুরি, ভোটার সেবায় অবৈধ অর্থ গ্রহণ এবং নারী সেবাগ্রহীতাকে হয়রানির অভিযোগে মো. জিয়াবুল ইসলাম নামে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক অফিস সহায়ককে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাকে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইসির জনবল শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইসির যুগ্ম-সচিব ডি এম আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জিয়াবুল ইসলাম বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা নির্বাচন অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি বগুড়ার কাহালু উপজেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিনানুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অফিসের টাকা চুরি, ভোটার নিবন্ধন ও স্থানান্তরের কাজে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণ, নারী সেবাগ্রহীতাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা, মাদকাসক্তি এবং দাপ্তরিক কর্মপরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগ ওঠে।

আদেশে আরও বলা হয়, কাহালুর আঘোরশালের বাসিন্দা মোছা. রেহানা বেগমের কাছ থেকে তার ছেলের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে জিয়াবুল এক হাজার টাকা নেন। নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ায় অভিযোগকারী তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি নানা ধরনের তালবাহানা করে বিভিন্ন কাগজপত্র চান এবং তাকে হয়রানি করেন।

একপর্যায়ে অভিযোগকারী কাহালু রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে উঠলে জিয়াবুলও তার পিছু নিয়ে একই ট্রেনের কামরায় ওঠেন। পরে ওই নারীর পাশে বসে অশ্লীল কথোপকথন করেন এবং জোরপূর্বক তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অভিযোগকারী নিরুপায় হয়ে কাহালু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে কাহালু উপজেলা নির্বাচন অফিসে, অফিস সময়ের পর টেবিলের ড্রয়ার থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা চুরি করার অভিযোগও ওঠে জিয়াবুলের বিরুদ্ধে। পরে তিনি নিজেই ওই টাকা চুরির কথা স্বীকার করেন বলে আদেশে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন খাবারের হোটেল, মোটরসাইকেল মেরামতের দোকান ও বিকাশের দোকান থেকে সেবা নিয়ে মূল্য পরিশোধ করতেন না। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা অফিসে এসে নানা ধরনের মন্তব্য করতেন। এতে দাপ্তরিক কর্মপরিবেশ বিনষ্ট হয়। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ভোটারদের কাছ থেকে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন নিয়ে তা অফিসে জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, একাধিকবার নিষেধ করার পরও জিয়াবুল অফিসে রাতযাপন করতেন। এতে বিভিন্ন সময়ে অফিসের ব্যবহার্য সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়ও তিনি প্রায়ই দফতরের বাইরে অবস্থান করতেন। এ বিষয়ে তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনি একজন মাদকাসক্ত কর্মচারী এবং তার মাধ্যমে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, রাজশাহীর এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৫, ৬, ২৬ ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ২ ও ১২ এপ্রিল মোট ছয় দিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন জিয়াবুল। এর আগে একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হলেও সতর্ক করে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপরও পরিবর্তন না আসায় ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

অভিযোগের জবাবে লিখিত বক্তব্য দিয়ে ব্যক্তিগত শুনানি চান জিয়াবুল। গত ৩ সেপ্টেম্বর শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চান তিনি এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন।

তবে নথি পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ দেখতে পায়, অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি ছাড়াও জিয়াবুল অফিসের টাকা চুরি করে তা স্বীকার করেছেন এবং কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে অফিসে রাতযাপন করেছেন। 

এসব বিষয় বিবেচনায় জিয়াবুলকে দোষী সাব্যস্ত করে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার ছয় দিনের অনুপস্থিতি অর্জিত ছুটি হিসেবে মঞ্জুর করে বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এমএইচএইচ/এএইচ