নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করতো একটি চক্র। এরপর চক্রের সদস্যরা অর্থ আত্মসাৎ করে সাধারণ মানুষদের নিঃস্ব করতো। এমন একটি সক্রিয় সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. জুলহাস উদ্দিন ও প্রহড়। কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ছুফি উল্লাহ জানান, মেহেদি হক নিয়ন নামে এক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগষ্ট অনলাইন প্রতারক চক্র টেলিগ্রাম অ্যাপসের একটি আইডির মাধ্যমে Zales জুয়েলারী নামীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেয়।
বাদী ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট দেখে চাকরি করতে আগ্রহী হলে প্রতারক চক্রটি কৌশলে একটি ফিশিং লিংক তৈরি করে তার মাধ্যমে বাদীকে ভুয়া ওয়েবসাইটে সংযুক্ত করে। প্রথমে বাদীকে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্নের মাধ্যমে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বাদীকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়।
একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি বাদীকে বিভিন্ন রাউন্ডে ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করার কথা বলে। অর্ডার সম্পন্ন করার সময় বাদীর অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন অঙ্কের মুনাফা দেখানো হয়। পরবর্তী অর্ডার সম্পন্ন ও দেখানো মুনাফার টাকা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে বলা হয়। প্রতারক চক্রের কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে কয়েক দফায় টাকা পাঠায়। এভাবে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারক চক্রটি বাদীর কাছ থেকে মোট ৯৪ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে।
তিনি জানান, সিআইডি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করার পর বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে। ইতোমধ্যে এ চক্রের ১২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে সিআইডির একটি অভিযানকারী দল কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার ১৯ নং এজাহারনামীয় আসামি মো. জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি প্রহড়কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
একেএস/এআরএম