নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
শুধু বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, প্রতিবন্ধী শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, দেশের অনেক প্রতিবন্ধী শিশু এখনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। ফলে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এসব শিশু ভবিষ্যতে পরিবার ও রাষ্ট্রের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকার আদাবরের রিং রোডের হোয়াইট প্যালেস কনভেনশন হলে ‘সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর তৃণমূল সম্মেলন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ভিজুয়ালি ইমপেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিআইপিএস) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ও ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহযোগিতায় এই সভার আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তি, নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা শেষ করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব, উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণের সংকট, দারিদ্র্য, যাতায়াতের সমস্যা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ব্যক্তিভিত্তিক সহায়তার অভাব তাদের শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জাতীয় জরিপের তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে মাত্র ৬৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং ৩৫ শতাংশ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনায় যুক্ত ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে।
সভায় ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (বার্ডো) নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সহজপ্রাপ্য করা, প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ, উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণ ও সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবস্থা, দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বৈষম্য কমাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুযোগ সম্পর্কে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা থেকে দূরে রেখে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিবন্ধী শিশু ও তাদের পরিবারের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ভিআইপিএসের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মজুমদার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা কঠিন।
ভিআইপিএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ. আমিন বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সমাজের সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ভিআইপিএসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অমিত, ঢাকার সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাপক তাসমিন আক্তার, আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলামসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
এএইচ/এএম