Dhaka Mail Logo

জাতীয়

উচ্চশিক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে প্রস্তুত: ইউজিসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। 

তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের করের অর্থে পরিচালিত হওয়ায় বরাদ্দের প্রতিটি টাকা প্রয়োজনের ভিত্তিতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন হবে। রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, ভবিষ্যতে এর চেয়েও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দের আগে এর প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। একই সঙ্গে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ যথাযথভাবে ব্যয়ের সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

নতুন জনবলের চাহিদার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো পদ বা জনবলের চাহিদা দেওয়ার আগে তার প্রয়োজন ও যৌক্তিকতা যথাযথভাবে নিরূপণ করতে হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনো অর্থ বা জনবলের চাহিদা উত্থাপনের আগে এর প্রকৃত প্রয়োজন যথাযথভাবে নিরূপণ করতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ বা অনুমোদন পাওয়ার পরও যদি তা নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে সেই চাহিদার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।’

এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও সরকারি অর্থ ব্যবহারে ইউজিসির ভূমিকা তুলে ধরে মামুন আহমেদ বলেন, সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অর্থায়ন করে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রেখেই সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা ইউজিসির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ মূলত জনগণের করের অর্থ। এই অর্থ যথাযথ খাতে, প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় হচ্ছে, এমন আস্থা সরকার ও জনগণের মধ্যে তৈরি করতে হবে।

সরকারি অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সরকার ও ইউজিসি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বরাদ্দ করা অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম।

দিনব্যাপী কর্মশালায় দেশের ২৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এমএইচ/এআরএম