নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতর (ইউএনওডিসি) যৌথভাবে ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।
মানব পাচারকে ‘সবচেয়ে গুরুতর, অমানবিক ও নিষ্ঠুর’ কাজগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়ায় ঠগ, অপরাধী ও মাফিয়ারা অর্থ আদায় করে। তারা এ দেশের মানুষের জীবনের বিনিময়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মানব পাচার রোধে আইনের বেশ কিছু সংশোধনী আনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছু আইন সংশোধন করেছি। মানব পাচারের সংজ্ঞাকে আমরা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত করেছি, যা বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৬ সালের মানব পাচার আইনের অধীনে আমরা এই ধরনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা ১৮৮৭ সালের জুয়া আইন সংশোধন করেছি এবং অনলাইন জুয়া, পাচার এবং এ জাতীয় অবৈধ কার্যক্রমকে আমাদের আইনি কাঠামোর আওতায় এনেছি। এছাড়া মানব পাচারের দিকটি কভার করতে পারে— এমন আরও কিছু আইন প্রবর্তন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মানব পাচার বিষয়ক প্রোটোকল অনুসমর্থন (র্যাটিফাই) করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তখন থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে ‘বেশ সতর্ক’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তবে তাদের জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া অভিযোগকারীদের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা, উপযুক্ত প্রমাণ ও অন্যান্য বিষয়াদি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বর্তমানে মানব পাচার আগের মতো ‘ব্যাপক নেই’ মন্তব্য করে আসাদুজ্জামান বলেন, অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, মানব পাচার এখন আর আগের মতো এতটা ব্যাপক নেই। তবে আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, আমাদের দেশে বেকারত্বের সংকট রয়েছে। আমরা মানুষকে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া থেকে আটকাতে পারি না।
ট্যুরিস্ট ভিসা ব্যবহার করে বিদেশে গিয়ে অনেকের অবৈধ অভিবাসী হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের সহায়তাও চাইছি, কীভাবে আমরা বিদেশে যাওয়া অভিবাসী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি।
নাগরিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে আমাদের নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কিছু ঘাটতি থাকতে পারে, তবে আমরা আপনাদের যেকোনো ভালো সুপারিশকে স্বাগত জানাই।
আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েসের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে।
আরএনবি/এআরএম