Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ভূমি অফিসে হাজিরা হবে জিও ফেন্সিংয়ে, ফাঁকি দিলেই যাবে ‘লাল সংকেত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ও ফাঁকিবাজি ঠেকাতে চালু হচ্ছে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা। ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে জিও ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ধারিত কর্মস্থলে থেকেই হাজিরা দিতে হবে তাদের। এতে কর্মস্থলের বাইরে থেকে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ যেমন থাকবে না, তেমনি অফিস চলাকালে অনুমতি ছাড়া কেউ বেরিয়ে গেলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে লাল সংকেত। পরীক্ষামূলকভাবে ছয় জেলায় চালু হওয়া এ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ভূমি কার্যালয়ে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি দৃষ্টি অ্যাপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়গুলোকে একই ডিজিটাল মনিটরিং কাঠামোর আওতায় আনা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, তথ্যভিত্তিক তদারকি এবং নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের ভূমিসেবা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং ভূমিসেবা কার্যক্রমের জবাবদিহি বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, জিও ফেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মস্থলের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থান করলেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা নিবন্ধন করতে পারবেন।

জিও ফেন্সিং হলো মানচিত্রের ওপর নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণের প্রযুক্তি। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি ভূমি অফিসের চারপাশে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের একটি ভার্চুয়াল সীমানা নির্ধারণ করা হয়। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মোবাইল ফোনের অবস্থান ওই সীমানার মধ্যে থাকলেই অ্যাপে উপস্থিতি নিবন্ধনের সুযোগ সক্রিয় হবে। ফলে কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করে হাজিরা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

অ্যাপটির মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চেক-ইন এবং কর্মদিবস শেষে চেক-আউট করতে পারবেন। একই ব্যবস্থায় ছুটির আবেদনও দাখিল করা যাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো ভূমি কর্মকর্তা অফিস চলাকালে কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল সংকেত দেখা যাবে। তবে অফিসে উপস্থিত থাকার পর সভা, তদন্ত বা সরকারি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে ‘সাইট ভিজিট’ অপশন ব্যবহার করে প্রস্থানের কারণ উল্লেখ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সাধারণত ভূমি অফিসে নাগরিকরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা গ্রহণ করেন। ফলে সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত।

ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত মাঠ প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়গুলো সরেজমিনে নিয়মিত তদারকি করা সময়সাপেক্ষ ও কঠিন। এ অবস্থায় অবস্থানভিত্তিক অনলাইন যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গেলে তদারকি কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থাটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর স্বল্পতম সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ভূমি কার্যালয়কে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম—এই ছয় জেলায় অ্যাপটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। এসব জেলার ৬১০টি কার্যালয়ের ৯১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এ সময় মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলমান ছয় জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

এএইচ/এমআর