Dhaka Mail Logo

জাতীয়

পৃথক ঘটনায় রাজধানীতে গৃহবধূ ও রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

রাজধানীর বনানী ও বাড্ডা এলাকায় পৃথক ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম (৪৩) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক এবং চাঁদনী আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে বনানী থানাধীন কড়াইলের জামাই বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় সিরাজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় চাঁদনী আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত সিরাজুল ইসলাম নরসিংদীর বেলাবো থানার বীরবাঘবের গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কড়াইলের জামাই বাজার এলাকার এরশাদ মাঠসংলগ্ন বাসায় থাকতেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

নিহতের বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম জানান, সিরাজুল দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে ছেলের সঙ্গে খাবার খেয়ে ছেলে বাইরে গেলে সেই সুযোগে তিনি গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে সাড়াশব্দ না পেয়ে ছেলে কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনার সময় সিরাজুলের স্ত্রী একটি রেস্টুরেন্টে রান্নার কাজে ছিলেন।

বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে বন্ধ ঘর থেকে সিরাজুলকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে মানসিক ও পারিবারিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নিহত গৃহবধূ চাঁদনী আক্তার চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর গ্রামের মেয়ে। তিনি স্বামী রিয়াজ উদ্দিন ও চার বছরের মেয়েকে নিয়ে উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণিতে থাকতেন।

নিহতের স্বামী রিয়াজ উদ্দিন জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। সম্প্রতি ভাইয়ের কাছ থেকে শাসন পাওয়ার পর থেকে চাঁদনী অভিমানী হয়ে পড়েছিলেন। ঘটনার দিন রিয়াজ কাজ শেষে বাসায় ফিরে তাদের মধ্যে সামান্য কথাকাটাকাটি হলে সে রুমের বাইরে যান। সেই সুযোগে চাঁদনী সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে ফাঁস দেন।

বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারা আক্তার জানান, খবর পেয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক কলহের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এমএমআর/এমআই