নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা করতো চক্রের সদস্যরা। এছাড়াও, বেটিং সাইটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তত্য জানান।
সিআইডি জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর একই চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতারের পর মামলাটির তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সজীব দে ও মো. মাসুদ রানা।
সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব বেটিং ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ত করা হতো।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি ভুয়া বা অস্তিত্বহীন দোকানের তথ্য ব্যবহার করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দোকান না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া MFS উদ্যোক্তা সিম/অ্যাকাউন্ট খুলে তা অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে ব্যবহার করত। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হতো। পরবর্তীতে সংগৃহীত অবৈধ অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করা হতো বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডি জানায়, এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে চলতি বছরের গত ৩১ আগস্ট পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-৩৫। এ ঘটনায় গোপন সংবাদের ভিক্তিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টায় রামপুরার ৬৭, পূর্ব হাজীপাড়াস্থ এসএস কর্পোরেশন (নগদ হাউজ)-এ অভিযান পরিচালনা করে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা ভুয়া MFS অ্যাকাউন্ট খুলে তা অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে ব্যবহার করতে সহযোগিতা এবং এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা স্বীকার করে।
সিআইডি আরও জানায়, এ ঘটনায় হওয়া মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একেএস/এমআই