নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা না করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। একই সঙ্গে জবাবদিহিহীন বিশেষ বাহিনী গঠন না করাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে দল দুটি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘RAB থেকে SRB: কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস, গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত’ শীর্ষক আলোচনা সভা থেকে যৌথভাবে এসব দাবি জানানো হয়।
সভায় বলা হয়, র্যাবের ক্ষমতা ও বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি নতুন নামে বহাল রাখা যাবে না। এসআরবির নামে জবাবদিহিহীন কোনো বিশেষ বাহিনী গঠন না করে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা সক্ষমতা পুলিশের বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই গড়ে তুলতে হবে।
সাত দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে: প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিতর্কিত বিশেষ বাহিনীর কাঠামোয় ব্যবহার বন্ধ; গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত; ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’ সংশোধন করে গুমের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে দেওয়া; প্রতিটি গ্রেপ্তার, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ নথিবদ্ধ ও জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বিচারিক, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি নিশ্চিত করা।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শহীদউল্লাহ ফরায়জী। তিনি বলেন, কোনো বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ‘কসাই বাহিনী’ বলা হচ্ছে না। বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে আইন নৈতিক ভিত্তি হারায়, ক্ষমতা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে চলে যায় এবং নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতার ওপর সহিংসতা স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পরিণত হয়।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধীনে কাজ করার কথা নয়। এ ধরনের বাহিনীর ক্ষমতা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নতুন করে বন্দিশালা স্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের কারণে র্যাব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। এখন একই ধরনের বাহিনীকে এসআরবি নামে পুনর্গঠন করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নমূলক কাঠামোর পরিবর্তনেরও দাবি জানান জেএসডির এই নেতা।
সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের পুলিশের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হলে তা রাষ্ট্রে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে র্যাবের চেয়েও এসআরবিকে বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি করে—এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, রাষ্ট্রের নিয়মিত বাহিনী থাকার পরও বিশেষ বাহিনী গঠন করা হলে এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন লড়াই গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা, নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ নাসির, ডা. হেলালুজ্জামানসহ দুই সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
এমএইচ/এআর