নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
সরকারি দফতরে কর্মকর্তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে জাতীয় পতাকার যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ লিখিত আদেশে এ কমিটি গঠন করেন।
কমিটিতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে রাখতে বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সরকারি দফতর ও আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোতে কর্মচারীদের ব্যবহার করা চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন বা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, কমিটি তা তদন্ত করবে। একই সঙ্গে এ ধরনের ব্যবহার ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’-এর নির্দেশনা ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করবে। তদন্ত শেষে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় পতাকা ব্যবহারের নিয়ম
আদেশে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে বলেছে, যেসব সরকারি কর্মচারী আইনগতভাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী নন, তাদের অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, ঝোলানো বা উত্তোলন থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকাকে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার সামগ্রী, অফিসের অলংকার কিংবা ব্যক্তিগত ‘ব্যাকড্রপ’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ার বা সোফার পেছনে বেআইনিভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। পাশাপাশি এ বিষয়ে রুলও জারি করা হয়।
আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী শরিফ সরকার। তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
শুনানির সময় ব্যারিস্টার সানজিদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মকর্তারা তাদের টেবিল বা চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন এবং পতাকার সামনে চেয়ারে বসছেন। চেয়ার বা টেবিলের পাশে এভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন আইনবহির্ভূত।’
তিনি জানান, ১৯৭২ সালের জাতীয় পতাকা বিধিমালায় ১৫ শ্রেণির ব্যক্তিকে তাদের দফতর, বাসস্থান ও গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের অধীন বিভিন্ন অফিস, বিশেষ করে সচিবালয়ের অধীন দফতর, করপোরেশন ও কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও তাদের চেয়ারের পেছনে পতাকা প্রদর্শন করছেন, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
ব্যারিস্টার সানজিদ আরও বলেন, ‘পতাকা বিধিমালায় বলা আছে, কোনো ভবনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করতে হলে তা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উড়ন্ত (ফ্রি-ফ্লোটিং) অবস্থায় থাকতে হবে। কিন্তু দফতরে পতাকার যে প্রদর্শন করা হচ্ছে, তা বাঁকিয়ে বা ভাঁজ করে চেয়ারের পেছনে রেখে তার সামনে কর্মকর্তারা বসছেন।’
আরএনবি