নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ পিএম
২০৪০ সালের মধ্যে দেশে তামাকের ব্যবহার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. এনামুল হক। তিনি বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তামাক চাষ, প্রক্রিয়াকরণ, কাঁচা তামাক পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘তামাকের অর্থনীতি ও তামাক কর: জনস্বাস্থ্য দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে প্রশিক্ষণটির আয়োজন করেছে। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ ও ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস এতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
ড. এনামুল হক বলেন, তামাকের ব্যবহার কমাতে হলে পুরো তামাক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজর দিতে হবে। তামাক শুধু ধূমপানের পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। তামাক চাষ, প্রক্রিয়াকরণ, তামাক পাতা ও কাঁচা তামাক পাতা বিপণনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা হলে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি তামাকের ব্যবহার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের প্রথম দিকের স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর একটি। ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে এখন হাতে রয়েছে মাত্র ১৪ বছর। গত ২৩ বছরে তামাক ব্যবহার কমানোর ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। ফলে বাকি সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তামাক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার, শিল্প, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে। তামাক চাষের জমি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা থেকে তামাক বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তামাকজাত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ড. এনামুল হক বলেন, শুধু বিক্রেতাদের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। বিক্রেতাদের তালিকাভুক্ত করার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে কর নীতির কার্যকর ব্যবহার জরুরি। তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়লে এর ব্যবহার কমার সুযোগ থাকে। সরবরাহ ও চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তামাকের ওপর কর আরোপের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তামাকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে তিনি তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ও তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ২০২০ সালের একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষের একটি অংশ অর্থের অভাবে প্রয়োজনের সময় চিকিৎসা নিতে পারেননি। চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের মধ্যেও একটি অংশ বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। এমন বাস্তবতায় তামাকের কারণে সৃষ্ট রোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর তামাক কর প্রকল্পের ফোকাল পার্সন অধ্যাপক ড. রুমানা হক।
তিন দিনের এ ট্রেনিংয়ের প্রথম দিনে ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ওপর প্রথম সেশনটি পরিচালনা করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব কর্মকর্তা এস কে তরিকুল ইসলাম এবং তামাকের অর্থনীতির ওপর দ্বিতীয় সেশনটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির (বিএনটিটিপি) তামাক কর প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং সঞ্চালনা করেন বিইআর'র তামাক কর প্রকল্পের সিনিয়র প্রকল্প ও যোগাযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল।
এএইচ/জেবি