Dhaka Mail Logo

জাতীয়

উদ্ভাবন-প্রযুক্তি ও টেকসই পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশ গড়ার আহ্বান তিতুমীরের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত প্রবৃদ্ধি এবং বহুমুখী রপ্তানি কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর তাঁর বক্তব্যে তিনটি প্রধান ধাপে দেশের অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। এগুলো হলো—অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৯ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং একক পণ্যনির্ভরতা থেকে বের হয়ে বহুমুখী পণ্য রপ্তানি নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো গবেষণা, বৈজ্ঞানিক পুনর্জাগরণ ও প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়ন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত মুক্তবাজার শিল্পনীতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যেভাবে দেশে পোশাক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি করেছিল, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

উদ্ভাবক ও গবেষকদের উৎসাহিত করতে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর নীতিগত ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার আশ্বাস দেন। দেশে মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ‘রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ফান্ড’ (গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল) গঠনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। বেসরকারি খাত বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই তহবিলে অবদান রাখলে সরকার কর ছাড়সহ প্রয়োজনীয় রাজস্ব সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের শেষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিকে সামনে রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও দক্ষতার বিস্তার এবং তরুণ উদ্ভাবকদের হাত ধরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও মেধা বিকাশে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

দেশে তরুণদের নতুন উদ্ভাবন ও মেধা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে ‘ইনোভেশন ফেয়ার’ (উদ্ভাবনী মেলা) আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব।

সভাপতির বক্তব্যে সচিব বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উদ্ভাবনী চিন্তাগুলোকে গবেষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে এবং সফল উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার পথ সুগম করা হচ্ছে। তিনি জানান, মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন কেবল প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ নয়; ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্ভাবন বাজারে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে এবং বিদেশেও, যেমন ওমানে, রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সচিব জানান, গত তিন দিনে ২০টি অ্যাকাডেমিক, মিডিয়া ও পলিসি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬৭১টি আবেদন থেকে দক্ষ প্যানেলের মূল্যায়ন ও বাছাইয়ের মাধ্যমে ৫০টি সেরা নিবন্ধিত উদ্ভাবনী দলকে নির্বাচিত করে মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

বিচারক প্যানেলের সিদ্ধান্তে সমাপনী দিনে সেরা ৫০টি উদ্ভাবনের মধ্যে হোমপিটাল নেক্সাস, স্মার্টহুইলচেয়ার, ফায়ারফ্লাই, ভয়েস অ্যাসিস্ট ডিভাইস, বিডি সাইবার হেল্পলাইন, ওয়াটার রিপেলেন্ট জুট ফেব্রিক, ন্যাচারাল ফাইবার পিসিবি, অ্যান্টেনা ফর ন্যানোস্যাট, লিকুইড ট্রি ও সেলফ কনট্যাক্টর—এই ১০টি সেরা উদ্ভাবনের উদ্ভাবকদের পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকার চেক ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মেলায় সক্রিয় ও সফল উপস্থাপনার জন্য গাজী অ্যাগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি, যশোর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বিবিইউটি, খুলনা ইউনিভার্সিটি ও এআইইউবি—এই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। মেলায় ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টির বেশি স্টল ছিল।

সমাপনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিজ্ঞানী, শিল্প উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও তরুণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআইকে/এআর