নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
জনগণের অর্থে নির্মিত নতুন সড়ক বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে আবার কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। নতুন সড়ক না কেটে বিকল্প পথে পানির লাইন স্থাপনের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএসসিসির আওতাধীন ইনার সার্কুলার রিং রোডের রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছর ধরে দুর্ভোগের পর এলাকার মানুষের সামনে একটি নতুন রাস্তা দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু ঢাকা ওয়াসা ‘বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের’ আওতায় নতুন এ সড়ক খুঁড়ে প্রায় ছয় ফুট ব্যাসের পানির লাইন বসাতে চায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা একাধিক সভা করে তাদের বিকল্প রুট নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছি। জনগণকে পুনরায় ভোগান্তিতে ফেলে এবং জনঅর্থের অপচয় করে আমি এই রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দিতে পারব না।’
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, কোনো উন্নয়নকাজ শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। একটি সংস্থা সড়ক নির্মাণের পর আরেকটি সংস্থা সেটি কেটে ফেললে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থেরও অপচয় হয়।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ আট লেনের সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আট লেনের মধ্যে চারটি এক্সপ্রেসওয়ে এবং বাকি চারটি সার্ভিস রোড হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় আরও দুই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ১০ কিলোমিটার ফুটপাত ও ১০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনটি ভেহিকুলার ওভারপাস, তিনটি ফ্লাইওভার, আটটি স্লুইস গেট, ছয়টি বাস-বে এবং ছয়টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কথা রয়েছে। এ ছাড়া দুই কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও আটটি টাওয়ার স্থানান্তরের কাজ চলছে।
প্রকল্পটির প্রথম ধাপের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ হয়েছে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। প্রথম ধাপ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে কামরাঙ্গীরচরের লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আবদুস সালাম বলেন, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার বাস রাজধানীর মূল যানজটে প্রবেশ না করেই ইনার সার্কুলার রিং রোড ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গের দিকে যেতে পারবে। এতে রাজধানীর সামগ্রিক যানজট কমার পাশাপাশি কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে ডিএসসিসি।
এর আগে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক লালকুঠি বা নর্থব্রুক হলের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
লালকুঠির সংস্কারকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনার সার্কুলার রিং রোডের মতো আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো এবং লালকুঠির মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ—দুটিই ঢাকার টেকসই উন্নয়নের অংশ।’
ডিএসসিসি জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘ডিসিএনইউপি’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ১ জুন লালকুঠির মূল সংস্কারকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ৩১ মে কাজ শেষ হয়েছে। সংস্কারের সময় ভবনটির ঐতিহ্যবাহী চুন-সুরকির গাঁথুনি ও লাল ইটের স্থাপত্য অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যতে লালকুঠিকে সাহিত্যসভা, চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পাঠচর্চার সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এআর