Dhaka Mail Logo

জাতীয়

উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এআই ব্যবহারের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে না দেখে দেশের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন খাতে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে এর ব্যবহার হতে হবে নাগরিককেন্দ্রিক ও মানবকল্যাণমুখী।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘এআই ফর বাংলাদেশের নেক্সট গ্রোথ ফেজ: প্রোডাক্টিভিটি, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রেডিনেস’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, এআই এরই মধ্যে পণ্যের নকশা, সেবা প্রদান ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার ধরন বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে সেই দেশগুলোই এগিয়ে থাকবে, যারা এ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারবে।

বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের বড় সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক ও উৎপাদনশিল্প, কৃষি, সরবরাহব্যবস্থা, আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জনপ্রশাসনে এআই কাজে লাগানো সম্ভব। এসব খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।

দেশের মেধাকে অর্থনৈতিক সক্ষমতায় রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মেধাবী। তবে শুধু মেধা থাকলেই জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না। মেধাকে গবেষণায়, গবেষণাকে উদ্ভাবনে, উদ্ভাবনকে উদ্যোগে এবং উদ্যোগকে কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে রূপ দিতে হবে।

এ জন্য সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বিত একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। তিনি বলেন, সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করবে, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকেরা সমাধান বের করবেন, উদ্যোক্তারা সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাবেন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করবে। সফল উদ্যোগকে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হবেন।

image

এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে আনেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বও তত বাড়বে। তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের এআই কৌশলকে স্থানীয় বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে তৈরি করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্যব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এআই নিয়ে এগোতে হবে।

ইসরায়েলের উদাহরণ তুলে ধরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, দেশটিতে ২ হাজার ১৫০টির বেশি এআইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় হলো, একটি দেশ আকারে ছোট হলেও মেধা, গবেষণা, উদ্ভাবন, পুঁজি, বিশ্ববিদ্যালয় ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে প্রযুক্তিতে বড় প্রভাব রাখতে পারে।

গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য বক্তারাও এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এআই ক্যামেরার উদাহরণ তুলে ধরে তাঁরা এআই নীতিতে সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে দ্রুত এআই অন্তর্ভুক্ত করা এবং এ খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার কথা বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, মানুষের কল্যাণে এআই ব্যবহার এবং মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী এআইভিত্তিক সমাধান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ কাজে গবেষক, একাডেমিয়া, বেসরকারি খাত ও ব্যবহারকারীদের যুক্ত করা হবে। দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি প্রণয়নের কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক থেকে শুরু করে এআই গবেষক, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিল্প ও ব্যবসায়ী সমাজ এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এর প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’। মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ও ইউনেস্কো চেয়ার অন ইন্ডাস্ট্রি ইন্টিগ্রেশন ইন হায়ার এডুকেশন সিস্টেমস ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সঞ্চালনায় বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক, এআই বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিল্প ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকেরা অংশ নেন।

এমএইচ/এআর