নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির ভোগ, দখল ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে করা সাম্প্রতিক আইন সংশোধনী বাতিলের দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। সংস্থাটির স্থায়ী কমিটির মতে, সংশোধিত এ বিধান ইসলামি শরিয়াহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভায় এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান।
সভায় জানানো হয়, সংশোধিত আইনে স্থাবর সম্পত্তি হেবা বা দানের মাধ্যমে হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির ভোগ, ব্যবহার ও দখলের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদি ও নাতি-নাতনি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে দাতার ভোগদখলের অধিকার নিবন্ধিত দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার কথাও বলা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সভায় আলেম-উলামা ও ইসলামি আইনজ্ঞদের উত্থাপিত শরঈ আপত্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কমিটির অভিমত, ইসলামি শরিয়ায় হেবা একটি স্বতন্ত্র সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি। হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর এর মালিকানা, দখল ও সংশ্লিষ্ট অধিকার শরিয়াহর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী কার্যকর হয়।
আরও পড়ুন
‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতামত নিয়ে পাস করুন’
সম্পত্তি বণ্টনে নতুন আইন কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে চ্যালেঞ্জের শামিল
সভায় আরও বলা হয়, হেবা ও মিরাস এক বিষয় নয়। হেবা হলো দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পদ্ধতি। অন্যদিকে মিরাস কার্যকর হয় কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর, যখন তার সম্পত্তি শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হয়। তাই এ দুই ব্যবস্থার মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে—এমন কোনো আইনগত কাঠামো তৈরি না করার পক্ষে মত দেয় আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটি।
কমিটির পক্ষ থেকে সংশোধিত বিধানকে শরিয়াহবিরোধী আখ্যায়িত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনটি পুনর্বিবেচনা ও বাতিলের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মুসলমানদের হেবা, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশের আলেম-উলামা ও ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আল-হাইআতুল উলয়া আশা প্রকাশ করে, সরকার সংশোধিত আইনটির শরঈ ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় বিধান পালনের অধিকার এবং পারিবারিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করা হবে।
সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানসহ স্থায়ী কমিটির অন্তর্ভুক্ত শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুফতিগণ উপস্থিত ছিলেন।
জেবি