নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের সাইবার হয়রানি, মানহানি ও অনলাইন নিরাপত্তাঝুঁকির মতো ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবিলায় নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ১০ম ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটিতে বাংলাদেশ সরকার নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এর সূচনা করা হয়। প্রযুক্তিগত ও আইনি ফাঁকফোকর দূর করা, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়ামের সঞ্চালনায় বৈঠকে ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এর পাঁচটি মূল লক্ষ্য ও কার্যপ্রণালি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য অভিন্ন বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও কনটেন্ট শনাক্তকরণে প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ডিজিটাল ফরেনসিক ও আইনি সক্ষমতা বাড়ানো।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা ডায়ালগ’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিকে সাধারণ নারীদের অনলাইন নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, নির্যাতন যখন রাজপথ থেকে স্ক্রিন বা অনলাইনে স্থানান্তরিত হয়, তখন ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীও সে অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এআইভিত্তিক ভুয়া বা কৃত্রিম কনটেন্টের ক্ষেত্রে ক্ষতি ও অপরাধ প্রমাণ করা বর্তমান আইনি কাঠামোয় জটিল। এসব আইনি ও প্রামাণিক সীমাবদ্ধতা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরাত আদিব চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে সেবা চালুর শুরুতেই নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ক্ষতি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়।
মায়ের ডাকের প্রতিষ্ঠাতা ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ভুক্তভোগীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, অভিযোগ নিয়ে আসার পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের আস্থা বজায় রাখতে হবে। হেল্পলাইন ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার জন্য যেন ভুক্তভোগীদের দফতরে দফতরে ঘুরতে না হয়, সে জন্য এক ছাদের নিচে সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যমান আইন সংশোধন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা জোরদারের বিষয়ে মতামত দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে শিগগিরই আগ্রহী দেশগুলোকে ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য ডায়ালগ’ জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। পাশাপাশি সর্বসম্মত সংজ্ঞা ও কারিগরি মানদণ্ড নির্ধারণে একটি কারিগরি কর্মদল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসএইচ/এআর