Dhaka Mail Logo

জাতীয়

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আত্মহত্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাভারের আশুলিয়া মডেল টাউনে মনোযত্ন আউটডোর কাউন্সেলিং সেন্টার, আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং মায়ের হাসি মেন্টাল হেল্থ সার্ভিস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— 'আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ও কথন পরিবর্তন'।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট ও অ্যাডিকশন প্রফেশনাল রাখী গাঙ্গুলী। আলোচক ছিলেন মনোচিকিৎসক ডা. সুমাইয়া বিনতে জলিল এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সহকারী পরিচালক ডা. নায়লা পারভীন।

মূল প্রবন্ধে রাখী গাঙ্গুলী জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩২২ জন নারী রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে আত্মহত্যার চিন্তা ও প্রচেষ্টার সঙ্গে মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন মানসিক রোগের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অধিকাংশ রোগীর বয়স ছিল ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। গবেষণায় ৬৫ শতাংশ রোগীর আত্মহত্যার চিন্তা এবং ৩৮ শতাংশ রোগীর আত্মহত্যার প্রচেষ্টার ইতিহাস পাওয়া যায়।

ডা. সুমাইয়া বিনতে জলিল বলেন, আত্মহত্যার চিন্তা বা তীব্র মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিকে বিচার বা দোষারোপ না করে মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় পেশাদার সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।

ডা. নায়লা পারভীন বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।

আলোচনা সভায় বলা হয়— আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা নয়; প্রয়োজন সচেতনতা, সহানুভূতি, সংযোগ এবং সময়মতো সহায়তা। সঠিকভাবে কথা বলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা একটি জীবন বাঁচাতে পারে।

এমআইকে/এআরএম