Dhaka Mail Logo

জাতীয়

এপিবিএনের তদন্ত ক্ষমতা বাড়িয়ে সংসদে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইন পাসের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশ রহিত করে বাংলায় একটি আধুনিক আইনি কাঠামো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে র‌্যাব সংক্রান্ত পূর্বের বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো এপিবিএনকে কোনো অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং বাহিনীর দায়িত্বের পরিধিও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলটির ওপর আলোচনায় বিরোধী দলের সদস্যরা সেটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে এসব প্রস্তাব নিষ্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠিত ও পরিচালিত হবে। এ ইউনিটের অধীনে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা অন্য কোনও বিশেষ ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আইন অনুযায়ী, এপিবিএন সদস্যরা সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং অবৈধ জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও নির্ধারিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা বিধানসহ বিমানবন্দরের সার্বিক সুরক্ষার দায়িত্বও এ বাহিনী পালন করবে।

ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনস অনুসরণ করে ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অপরাধের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তদন্তের স্বার্থে ব্যাটালিয়নকে নিজস্ব আটক কেন্দ্র, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের আইনি অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে সমগ্র বাহিনী পরিচালিত হবে।

অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে গবেষণার পাশাপাশি এপিবিএন সদর দপ্তরে সাইবার সেল গড়ে তোলা হবে। সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক বা প্রাক্কলনে এপিবিএনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে, তবে যোগদানকারীদের প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

বাহিনীর বিচারিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনে বিশেষ ও আপিল আদালতে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি বাধ্য করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ দিন এবং বিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এএম