Dhaka Mail Logo

জাতীয়

স্থানীয় নির্বাচনে ৯৮ হাজার কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করবে ইসি

মো. মেহেদী হাসান হাসিব

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের চারটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের জন্য আলাদা ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

যেখানে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ১৯৬টি। এসব ভোটকেন্দ্রে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সূত্র ঢাকা মেইলকে জানায়, গত ২৭ আগস্ট মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। 

এরপর আমরা তা কেন্দ্রীয়ভাবে একত্রিত করে মোট সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর এ চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ৯৮ হাজার ১৯৬টি ভোটকেন্দ্র আমরা চূড়ান্ত করেছি। যেখানে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র কেন নির্ধারণ করা হয়নি জানতে চাইলে জানা যায়, জেলা পরিষদের নির্বাচন তো সরাসরি নির্বাচন নয়। এজন্য এক্ষেত্রে আলাদা ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজন হয় না।

জানা যায়, সিটি করপোরেশনের ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে ৫ হাজার ১৫১টি। এতে স্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে ২৩ হাজার ১০৭টি ও অস্থায়ী রয়েছে ১ হাজার ৯৫৮টি, মোট ২৫ হাজার ৬৫টি ভোটকক্ষ।

উপজেলা পরিষদের জন্য ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে স্থায়ী ৪১ হাজার ৪৪৭টি, অস্থায়ী ১৯টি, মোট ৪১ হাজার ৪৬৬টি। এতে স্থায়ী ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮২২টি, অস্থায়ী ১৩ হাজার ৪৮৩টি, মোট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৫টি।

পৌরসভার জন্য ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে স্থায়ী ৫ হাজার ১৮৪টি, অস্থায়ী ১৮টি, মোট ৫ হাজার ২০২টি। এতে স্থায়ী ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৭৬৯টি, অস্থায়ী ১ হাজার ১৯৭টি, মোট ২৫ হাজার ৯৬৬টি।

ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে স্থায়ী ৪৫ হাজার ৯৭২টি, অস্থায়ী ৪২৫টি, মোট ৪৬ হাজার ৩৯৭টি। এতে স্থায়ী ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ১৫৯টি, অস্থায়ী ১৩ হাজার ৫৮০টি, মোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। অতীতে কোনো কোনো ইউনিয়নে দুই বা তিনটি ভোটকেন্দ্র থাকলেও এবার প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য আলাদা একটি কেন্দ্র থাকবে। এজন্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

সেপ্টেম্বরে তফসিল, নভেম্বর ভোট

সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যাত্রা শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে যেতে সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন মাঠে নামতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্যও সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।

তফসিলের সময় নিয়ে সিইসি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটা তফসিল দিতে পারব।’ তবে নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণে দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আইনগত সময়সীমাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে আমাদের এই বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে। আইনি বিষয় আছে এখানে। এই বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচ ধাপে নাকি ছয় ধাপে হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, উপজেলা ভিত্তিক নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে, সেগুলো একই সঙ্গে হবে। এক উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন একসঙ্গে হলো, বাকিগুলো অন্য ধাপে হলো, তাহলে একটা বিশৃঙ্খলা হয়ে যাবে। তাই একই সঙ্গে এক উপজেলার সবগুলোতে নির্বাচন হবে। এবং কয়েক ধাপে হবে নির্বাচন।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, গড়ে ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র। সাধারণভাবে ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৫০০ জন মহিলা ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে হবে। তবে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজনে একাধিক গোপনকক্ষ রাখা যাবে। প্রত্যেক সাধারণ ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যে অন্তত একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে বাস্তবতার নিরিখে প্রয়োজন হলে একটি ওয়ার্ডে একাধিক ভোটকেন্দ্রও স্থাপন করা যাবে।

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা মাঠ পর্যায়ে প্রকাশ করা হয়। এরপর গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত খসড়া তালিকার ওপর দাবি/আপত্তি গ্রহণ করে তা ২৩ আগস্ট নিষ্পত্তি করা হয় এবং গত ২৭ আগস্ট মাঠ পর্যায়ে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। এরপর ৩০ আগস্টের মধ্যে মাঠ পর্যায় থেকে ইসি সচিবালয়ে তথ্য প্রেরণ করতে বলা হয়। মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য আসার পর তা একীভূত করে কমিশনে উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা-জটিলতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।

পৌরসভার রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি পৌরসভা এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়।

উপজেলা পরিষদের রোডম্যাপ থেকে জানা যায়, নতুন ৫টি উপজেলাসহ দেশে মোট উপজেলা ৫০০টি। কোনো উপজেলাতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব উপজেলাই নির্বাচন উপযোগী।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, নতুন সিটি করপোরেশন বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের কোনোটিতেই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব সিটিই নির্বাচন উপযোগী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে ৬১টি জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে ৫৬টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে পৌরসভাগুলোও প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এমএইচএইচ/এআরএম