নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
বন্ধু বা সহকর্মীর চাপের কারণে নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ। ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো পণ্যের ব্যবহার নিয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশি তরুণদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচ ব্যবহার প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২৪ জন তরুণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ২১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ছিলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৫ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। আর ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহার করেছেন।
নতুন ধরনের তামাকপণ্যের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ তরুণ ই-সিগারেট, ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিকোটিন পাউচ এবং শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ব্যবহার করছেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্যের যেকোনো একটি ব্যবহার করেছেন। নারী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এ হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রচলিত সিগারেট ব্যবহারের সঙ্গেও নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বর্তমানে প্রচলিত সিগারেট ব্যবহারকারী তরুণদের মধ্যে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, প্রচলিত সিগারেট ব্যবহার করেন না এমন তরুণদের মধ্যে এ হার ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহারের কারণ হিসেবে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যবহারকারী সামাজিক বা বন্ধুদের চাপের কথা জানিয়েছেন। ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রচলিত তামাকের ব্যবহার কমানো বা বিকল্প হিসেবে এসব পণ্য ব্যবহারের কথা বলেছেন। আর ৩১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা নিকোটিনের মাত্রা পছন্দ করেন।

এসব পণ্যের সহজলভ্যতার বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। বর্তমান ব্যবহারকারীদের ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভেপ বা বিশেষায়িত তামাকপণ্যের দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহ করেছেন। ৩১ শতাংশ বন্ধু বা সহকর্মীর কাছ থেকে এবং ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ করেছেন। মাত্র ২৪ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, এসব পণ্য কেনার সময় তাদের বয়সের প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হয়েছিল।
তরুণদের এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন ও বিপণনের সংস্পর্শে আসার তথ্যও পাওয়া গেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া তরুণদের ২৬ শতাংশ দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে, ২০ দশমিক ৮ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ১৩ দশমিক ২ শতাংশ অন্যান্য মাধ্যমে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন বা বিপণন দেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখার ক্ষেত্রে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখার হার সবচেয়ে বেশি ছিল। ৮৯ শতাংশ তরুণ ফেসবুকে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখেছেন। এরপর ইনস্টাগ্রামে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ইউটিউবে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বিজ্ঞাপন দেখেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে সুরক্ষা দিতে নতুন ধরনের তামাকপণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের বিপণন ও সহজলভ্যতা তরুণদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, গবেষণায় উঠে আসা তথ্য নীতিনির্ধারণ ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণদের সুরক্ষায় এসব পণ্যের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামসের আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মাহিন মালিক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার।
এএইচ/এআর