Dhaka Mail Logo

জাতীয়

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি, একা সমাধানও করবে না: হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি এবং এ সংকটের সমাধানের দায়িত্বও একা বাংলাদেশের নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের স্পষ্ট লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রত্যাবাসন বলতে শুধু সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া বোঝায় না। এমন একটি পরিবেশে ফিরে যাওয়া প্রত্যাবাসনের অর্থ, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা রাখতে পারবেন। এ জন্য মিয়ানমারে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে, যা প্রত্যাবাসনকে প্রকৃত অর্থে টেকসই করবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, জনসেবা, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এরপরও বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানবিক দায়িত্বকে সীমাহীন দায়িত্ব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। তাই এ সংকটের সমাধানও বাংলাদেশ একা করতে পারে না। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু সংহতি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দিকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অর্থায়ন নিশ্চিত ও ধারাবাহিক রাখতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও অর্থবহ সহায়তা দিতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণগুলো সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, মানবিক সহায়তা বাস্তুচ্যুতির পরিণতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এই সংকটের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হলে রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। শুধু মানবিক সহায়তার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

সেমিনারে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বক্তব্য দেন।

এএইচ/এআরএম