জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
দেশে সারের কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একইসঙ্গে বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির যে ষড়যন্ত্র করছে, বিরোধী দল যেন সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানের উত্থাপিত ‘দেশজুড়ে তীব্র সার সংকটে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়া; কৃষকদের মাঝে বিরাজমান আতঙ্ক এবং সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নতুন ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে টুকু বলেন, ‘শূন্য ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যার আবেদনের শেষ দিন আগামীকাল। আবেদনের তারিখই শেষ হয়নি, কে পেল না পেল তা নির্ধারণের আগেই আপনারা দুর্নীতির কথা বলছেন! আপনারা কল্পনায় ভাসছেন।’
তিনি জানান, সারাদেশে প্রায় ৮ হাজার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব ডিলার প্রত্যেকে দুজন করে খুচরা ডিলার নিয়োগ দিতে পারবেন। এতে আরও ১৬ হাজার ডিলার যুক্ত হবেন। এর বাইরে বর্তমানে ৩১ হাজারের বেশি ডিলার রয়েছেন। সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশে সার মজুত ও চাহিদার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মোট সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টন। এর বিপরীতে আমাদের জোগান রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ, আমাদের ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন সার সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত) থাকবে ইনশাআল্লাহ। এ নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
তিনি বলেন, বর্তমানে আমন ধানের শিষ বা কুশি বের হওয়ার পর্যায় চলছে। এ সময়ে সারের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এখন মূলত সামনের রবি মৌসুমের জন্য কৃষকরা সার সংগ্রহ করছেন।
সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে টুকু বলেন, মন্ত্রণালয়ের দুজন যুগ্ম সচিব ও দুজন উপসচিবের তত্ত্বাবধানে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি মনিটরিং সেল কাজ করছে। কোথাও অভিযোগ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে পাঁচজন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রথম ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সম্মানিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারের অপচয় রোধ হবে। কোন কৃষকের কতটুকু জমি এবং সেখানে কতটুকু সার প্রয়োগ করতে হবে, তা নির্ধারিত থাকবে। বিএনপি যা বলে, তাই করে। বিএনপি কখনোই জনগণের বিপক্ষে যায় না।’
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের গৃহপালিত বলতে চাই না। আমরা আপনাদের এই সংসদ গৃহে রাখতে চাই। আপনারা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে কথা বলুন। বিগত দিনে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, তারা এখন ষড়যন্ত্র করছে। দয়া করে তাদের উসকানিতে বা ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।’
বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ আখ্যা দিয়ে টুকু বলেন, ‘আমরা যদি সকলেই মজলুম হয়ে থাকি, তবে দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। যাতে এই দেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করার সুযোগ না পায়।’
টিএই/এএইচ