নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পায়োনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে হওয়ায় এর নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পায়োনিয়ার বেসের একটি অস্থায়ী ভবনে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে অবস্থিত।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করে। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি।
অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের অফিসের আসবাবপত্র, নথিপত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ-সংক্রান্ত কিছু সরঞ্জাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্রের পর্যাপ্ত সংরক্ষিত অনুলিপি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে থাকায় তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটছে না।
প্রাথমিকভাবে বিভক্ত ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের অভ্যন্তরীণ অংশের ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রকল্পের অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
জনসাধারণকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কমিশন বলেছে, অগ্নিকাণ্ডটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে থাকা একটি অস্থায়ী ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
এমআর/এআর