জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
‘আমাকে আর মাইরো না, ও আল্লাগো’—স্বামীর মারধরের সময় এভাবেই আকুতি-মিনতি করে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন মুক্তা ইসলাম মাওয়া। কিন্তু তাতেও থামেননি তাঁর স্বামী সোহেল সিকদার। বেল্ট দিয়ে স্ত্রীকে পেটানোর পাশাপাশি সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে মুক্তার ভাইয়ের ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠান তিনি। পরে মেসেজে লেখেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’
এর দুই দিন পর রাজধানীর খিলক্ষেতের ওই ফ্ল্যাট থেকে মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুক্তার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেত এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। ২৫ বছর বয়সী মুক্তার পায়ে শিকল দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে তাঁকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্যাতনের ভিডিওতে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মুক্তাকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন সোহেল।
মুক্তা ও সোহেলের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়া এবং যৌতুকের দাবির প্রতিবাদ করায় কয়েক মাস ধরে মুক্তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন সোহেল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সোহেল বেল্ট দিয়ে মুক্তাকে মারধর করছেন। এ সময় মুক্তা কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করছেন। সোহেলকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু। তোকে আমি ছাড়ব না।’

একপর্যায়ে মুক্তা বলেন, ‘আমি কিছু করিনি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এরপরও তাঁকে মারধর করা হয়। তখন মুক্তা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমাকে আর মাইরো না, ও আল্লাগো।’ ভিডিওতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও কালচে জখম দেখা যায়।
ওই সময় পাশের কক্ষে ছিলেন তাঁদের দুই সন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪)। মায়ের ওপর নির্যাতনের সময় দুই শিশুকে কাঁদতে দেখা যায়। একপর্যায়ে মুক্তা স্বামীকে বলেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’ তবে এরপরও তাঁকে মারধর করা হয়।
নির্যাতনের পর মুক্তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখেন সোহেল। পরে নির্যাতনের ভিডিওটি মুক্তার ভাইয়ের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে তাঁকে বোনকে নিয়ে যেতে বলেন।
পুলিশ জানায়, ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওই ফ্ল্যাট থেকে মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মুক্তার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দিন বিকেলে সোহেল সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক রাজীব ভৌমিক ঢাকা মেইলকে বলেন, সোহেল সিকদার মুক্তাকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার মারধরের কারণে মুক্তার মৃত্যু হয়েছে, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এমআইকে/এআর