বিশেষ প্রতিনিধি
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আগামী মাস অক্টোবরে এসব ট্রেন আবারও দু'দেশের মধ্যে চলাচল শুরু হবে বলে ইতোমধ্যে উভয় দেশের পক্ষ থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেছে।
এনডিটিভিসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুনরায় রেল যোগাযোগ শুরু করতে দিনক্ষণ নির্ধারণের জন্য মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আসছে ভারতীয় রেলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী আইজিআরএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সকাল থেকে রেলভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় রেলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে। বৈঠকে বাংলাদেশ রেল ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিদ থাকবেন।
এ বৈঠক বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে হয়। সর্বশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছর ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি, ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা পেছানোর পর এবার ঢাকায় রেলভবনে বৈঠক যাচ্ছে।
পর্যটন ও চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করেন। এক্ষেত্রে যাত্রীদের প্রথম পছন্দ রেল।
কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। তিক্ততার একপর্যায়ে উভয় দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সূত্র জানায়, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে। উভয় পক্ষে তিক্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এর পরপরই মূলত দৃশ্যপটে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।
সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উভয় দেশের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুদেশের মধ্যে জনপ্রিয় রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে।
এখন দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। এ বৈঠকে চূড়ান্ত হবে দুই দেশ মধ্যে আগামী মাস থেকেই আন্তঃদেশীয় তিনটি ট্রেন চালু হওয়ার।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রেল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, কলকাতা থেকে ঢাকা ও খুলনা এবং নয়া জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হচ্ছে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আইজিআরএম হলো একটি বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক ফোরাম, যেখানে উভয় দেশের রেল কর্তৃপক্ষ এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা আন্তঃসীমান্ত ট্রেন চলাচল, রেল পরিকাঠামো প্রকল্প এবং পণ্য পরিবহণ নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মিলিত হন।
-এমএমএস