নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে যানবাহন শনাক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে চালকদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ ও পর্যায়ক্রমে লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল করতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুমোদনের পর বৈধ ও অনুমোদিত অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে।
মন্ত্রী জানান, নীতিমালা অনুমোদনের পর অটোরিকশার নিবন্ধন, চলাচলের রুট নির্ধারণ, চালক নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে। পাশাপাশি চালকদের নিবন্ধনের পর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যায়ক্রমে লাইসেন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যান চার্জ দিতে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ প্রয়োজন হয়, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
সালাহউদ্দিন বলেন, বিপুলসংখ্যক এসব যানবাহনের বিপরীতে দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিড ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অংশ ছিল ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মন্ত্রী বলেন, এই বাস্তবতায় প্রধান সড়কে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ডিএমপি অভিযান চালাচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারকারী গ্যারেজেও অভিযান চলছে।
জেবি