Dhaka Mail Logo

জাতীয়

২৪ জেলার সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে মাদক

একে সালমান

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম

  • সীমান্তবর্তী জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ রুট 
  • প্রায় ১৫০ প্রবেশপথে নজরদারি 
  • ভারত-মিয়ানমার সীমান্তই প্রধান রুট 
  • নতুন রুটে পাচারকারীদের আনাগোনা 
  • এক বছরে ৩৯০ মামলা, গ্রেফতার ৪৪৯

সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিনই দেশে ঢুকছে মাদকের নতুন নতুন চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি, অভিযান ও গ্রেফতার সত্ত্বেও থামছে না মাদক পাচার। বরং সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পাচারের রুট, কৌশল ও বাহকের ধরন। উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও বাংলাদেশ ক্রমেই পরিণত হচ্ছে মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডরে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদকপ্রবণ ‘গোল্ডেন ট্রায়াংগেল’ অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় একদিকে মিয়ানমার, অন্যদিকে ভারত সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, আইসসহ নানা ধরনের মাদক। সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়লেও পাচারকারীদের অভিনব কৌশলের কাছে অনেক ক্ষেত্রেই ফাঁক থেকে যাচ্ছে নজরদারিতে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত থাকা দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ১৫০টি পয়েন্টকে মাদক প্রবেশের ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব রুটে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা, দুর্গম ভূখণ্ড এবং জনবল ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়লে তারা যেমন দ্রুত রুট বদলে ফেলছে, তেমনি পরিবর্তন করছে পরিবহন ও পাচারের কৌশলও। ফলে একদিকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ ও পাচারকারী গ্রেফতার হলেও অন্যদিকে অরক্ষিত ও কম নজরদারির সীমান্ত পয়েন্টগুলো দিয়ে অব্যাহত থাকছে মাদকের প্রবেশ।

‎সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা, নদীপথ, চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামকে কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা ছোট ছোট চালানে মাদক দেশের ভেতর ঢোকায়। পরে এসব চালান পরিবহন করা হয় বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে। সীমান্ত থেকে মাদক সংগ্রহের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের জন্য রয়েছে একাধিক স্তরের সিন্ডিকেট। স্থানীয় বাহক থেকে শুরু করে পাইকারি ব্যবসায়ী এবং শহরভিত্তিক খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে এসব মাদক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে ঢাকাগামী মাদকের চালান আটকের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।

‎ডিএনসির তথ্য বলছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে দেশের আইন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ২০ কোটি ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২২১ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে। এ সময়ে ২ হাজার ১৯৩ কেজি হেরোইন, ১৫৩ কেজি কোকেন, ২২৩ কেজি আফিম, ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫২ কেজি গাঁজা, ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩৭ বোতল ও ৬৪৬ লিটার ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ পিস। এ সময়ে ৬৩ কেজি হেরোইন, ১০ কেজি কোকেন, ৮০০ গ্রাম আফিম, ৩৫ হাজার ১২১ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ পিস ও ৭৬ লিটার ফেনসিডিল, ৬৮ হাজার ৪৬৫ বোতল ও ৫ হাজার ১১৯ লিটার বিদেশি মদ, ৮ হাজার ৫২১ ক্যান ও ৫ হাজার ৩৫৪ বোতল বিয়ার জব্দ করা হয়েছে।

‎যে ২৪ জেলা হয়ে ঢুকে মাদক

‎মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের দেওয়া এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী ২৪ জেলা হয়ে দেশে মাদক ঢুকছে। জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ময়মনসিংহ, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, নেত্রকোনা, জামালপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও শেরপুর।

‎‎মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) ২০২৪-২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার। পশ্চিমাঞ্চলীয় করিডোরের প্রবেশপথগুলো সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী জেলায়। উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত করিডোরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার বিভিন্ন পয়েন্ট রয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় করিডোর, বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে মূলত ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথের চোরাচালান আসে। টেকনাফ, উখিয়া, শাহপরীর দ্বীপ, তুমব্রু, ঘুমধুম, কুতুপালং ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের বেশ কয়েকটি পয়েন্টকে মাদক চোরাচালানের সক্রিয় বা ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‎পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ২৫ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব জেলার সীমানা পার হয়ে বাংলাদেশে মাদক ঢুকছে। এরমধ্যে, দিনাজপুর ও সুনামগঞ্জের সীমানা ব্যবহার করে গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সবচেয়ে বেশি ঢুকছে।‎

‎কক্সবাজার সীমানা ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ও হেরোইন দেশে ঢুকছে। যা ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্ত দিয়ে ঢোকে। সম্প্রতি আফগানিস্তানে পপি চাষ কমে যাওয়ায় মিয়ানমারের পাহাড়ি অঞ্চলে এর চাষ বেড়েছে। ফলে, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে হেরোইনের চোরাচালান কয়েক গুণ বেড়েছে। কক্সবাজারের পাশাপাশি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা দিয়ে হেরোইন বাংলাদেশে ঢুকছে। এছাড়াও, কক্সবাজারের মহেশখালী, মনাখালী, শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ যা মিয়ানমারের মংডু, নাইখোংদিয়া, সিতারগোলা, সিত্তে, আল লে থান খেয়সহ কয়েকটি অঞ্চল দিয়ে কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করে। এর পাশাপাশি, কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার রৌমারীচর দিয়ে ইয়াবা দেশে প্রবেশ করে।

‎ফেনসিডিল যেসব এলাকা দিয়ে প্রবেশ করছে তার মধ্যে অন্যতম দিনাজপুর। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিন দিনাজপুর, কোচবিহার জেলা, আসাম প্রদেশের ধূবরী ও সাউথ সালমারা মানকাচর জেলা হওয়ায় এ সীমান্ত দিয়ে ‘কোডিন ফসফেট’ মিশ্রিত ফেনসিডিল সবচেয়ে বেশি প্রবেশ করে।

‎দেশে মাদকের বাজারে অহরহ গাঁজা মিলছে। এসব গাঁজার সবচেয়ে বড় চালান দিনাজপুর ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকে। এর পাশাপাশি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। বিশেষ করে ভারতের আসাম প্রদেশের ধুবরী, করিমগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, ত্রিপুরা প্রদেশের আগরতলা জেলা সীমান্ত দিয়ে বেশির ভাগ গাঁজা দেশে ঢোকে।

‎এছাড়াও, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট দেশে ঢুকছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয় জেলা ও দক্ষিণ দিনাজপুর হয়ে। এসব অঞ্চল থেকে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও দিনাজপুর এলাকায় এ ট্যাবলেটে বাজার সরগরম।

‎পাশাপাশি, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের সীমান্তবর্তী অঞ্চল হয়ে দেশে বিলাতি মদ প্রবেশ করছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী, শ্রীবর্দী, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে এ মাদক দেশে ঢোকে।‎

‎যেসব দেশ থেকে বেশি মাদক আসে

‎বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে হওয়ায় মূলত এ দুই দেশ থেকেই দেশে সবচেয়ে বেশি মাদক প্রবেশ করছে। মাদক পাচারে পাচারকারীরা সরাসরি সীমান্ত পার হয়ে দেশে প্রবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। এ দুই দেশের বাইরে বিদেশি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমেও বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও মালয়েশিয়া থেকে মাদক দেশে প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তানজানিয়া, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন ও মালাউইয়ের নাগরিকদেরও বিভিন্ন সময়ে মাদক বহনের ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে পাচারকারীরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে মিয়ানমার-কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের অভিযোগে ৩৯০টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৪৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৫ পিস ইয়াবা, ৪১০ গ্রাম আইস, ৫০৩ গ্রাম হেরোইন, ২৫ কেজির বেশি গাঁজা এবং ৮৩০ লিটারের বেশি চোলাই মদ জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে গত এক বছরে ১১ হাজার ৯৩১টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ১২ হাজার ৭১৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৯৯ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজির বেশি হেরোইন, ২ হাজার ৯৩৬ কেজি গাঁজা, ৮ হাজার ৮৮ বোতল ফেনসিডিল এবং ৯৩ হাজার ৮১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

‎‎সিনথেটিক মাদক রোধ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

‎মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক মাদক আটক করছি। তবে মাদকের এই প্রবাহ বন্ধ করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইন প্রয়োগকারী সব সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান পরিচালনা করা গেলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

এই কর্মকর্তা বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে সিনথেটিক মাদকের প্রবেশ ঠেকানো। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজের একটি অংশ দেশ-বিদেশের মাদক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। এসব চক্রকে নির্মূল করা না গেলে ভবিষ্যতে এটি দেশে মাদক পাচার ও বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে।

মেহেদী হাসান আরও বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান তিনটি বৃহৎ মাদকপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্র অনেক সময় বাংলাদেশকে পাচারের রুট বা ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে যেমন মাদক দেশে প্রবেশ করছে, তেমনি ফরেন পোস্টাল, কুরিয়ার ও ইএমএসের মাধ্যমেও মাদক আসছে।‎

‎মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় দেশের মানুষ ব্যাপকভাবে মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাদক প্রতিরোধ একটি সামাজিক আন্দোলন ও একটি সামাজিক যুদ্ধ। সম্মিলিতভাবে আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

মহাপরিচালক বলেন, মাদক নির্মূলে পরিবার থেকেই প্রতিরোধ শুরু করতে হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেবা বিস্তারের লক্ষ্যে ঢাকা বিভাগের বাইরে আরও সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প বর্তমান সরকার অনুমোদন দিয়েছে।

‎সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক ঢাকা মেইলকে বলেন, সীমান্তে মাদক ঠেকাতে শুধু টহল বা চেকপোস্ট বাড়ালেই হবে না। এর পাশাপাশি সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, মাদক কারবারিদের আর্থিক লেনদেন অনুসরণ, আন্তঃজেলা পরিবহন ব্যবস্থায় নজরদারি এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও কার্যকর করতে হবে।

এই অপরাধ বিজ্ঞানী বলেন, চিহ্নিত মাদক পাচারের রুটগুলোর পাশাপাশি নতুন সম্ভাব্য রুটও নিয়মিত বিশ্লেষণ করা জরুরি। কারণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বাড়লে পাচারকারীরা দ্রুত কৌশল পরিবর্তন করে অন্য পথ বেছে নেয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে এটি বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অধ্যাপক তৌহিদুল হক আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে দেশের অভ্যন্তরে এর বিস্তার রোধ করা কঠিন হবে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মাদক সিন্ডিকেটের অর্থের উৎস, মূল হোতা এবং মাদকের সরবরাহব্যবস্থা শনাক্ত করে তা ভেঙে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

‎একেএস/জেবি