Dhaka Mail Logo

জাতীয়

সংসদে পিতা-মাতার সম্পত্তি রক্ষার বিল পাস, ‘হেবা’ নিয়ে তুমুল বিতর্ক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

পিতা-মাতার কাছ থেকে জোর করে সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া এবং পরে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঠেকাতে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

তবে বিলের বিধান মুসলিম শরিয়া আইনের ‘হেবা’ বা দান বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে অধিবেশনে তুমুল বিতর্ক হয়।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

বিলটির ওপর আলোচনায় বিরোধী দলীয় নেতাসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য শরিয়া আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে ইসলামিক স্কলারদের মতামত নেওয়ার দাবি জানান।

বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো- পিতা-মাতা জীবিত অবস্থায় কোনো সন্তানকে সম্পত্তি হেবা বা দান করলেও আমৃত্যু ওই সম্পত্তির দখল ও ভোগদখলের অধিকার পিতা-মাতার কাছে রাখা। এর মাধ্যমে সন্তানদের দ্বারা পিতা-মাতার সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার পর তাদের অসহায় অবস্থায় ফেলে দেওয়ার ঘটনা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিলের বিরোধিতা করে সংসদ সদস্যরা বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী হেবা বা দানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সম্পত্তির দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তর করা। জীবিত অবস্থায় দখল হস্তান্তর না করলে শরিয়া অনুযায়ী হেবা কার্যকর হয় না বলেও দাবি করেন তারা।

সংসদ সদস্যরা বলেন, ‘অনেক কুলাঙ্গার সন্তান বাবা-মাকে ব্ল্যাকমেইল করে সম্পত্তি লিখে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়- এটি চরম সত্য। এর প্রতিকার অবশ্যই দরকার। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে শরিয়া আইনের মৌলিক জায়গায় হাত দেওয়া উচিত হবে না।’

বিলটি পাসের আগে দেশের খ্যাতনামা ইসলামিক স্কলার, ফতোয়া বোর্ড ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতামত নেওয়ার দাবি জানান বিরোধী সদস্যরা। এজন্য আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

তবে বিরোধীদের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিলটির সঙ্গে শরিয়া আইনের কোনো সংঘাত নেই।’

এ বিষয়ে ১৯২২ সালের প্রিভি কাউন্সিল, ১৯৫৬ সালের ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট এবং ১৯৬৯ সালের লাহোর হাইকোর্টের বিভিন্ন রায়ের উদ্ধৃতিও দেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সম্পত্তির মালিকানা এবং ভোগদখলের অধিকারকে আলাদা করার স্বীকৃতি ইসলামি আইনেই রয়েছে।’ পিতা-মাতা ন্তানের নামে সম্পত্তির মালিকানা লিখে দিলেও আজীবন সেই সম্পত্তির ভোগদখল করতে পারবেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ার মতো মুসলিম দেশগুলোর সিভিল কোডেও এ ধরনের বিধান রয়েছে।’

অসহায় বাবা-মা যেন শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য না হন, তাদের সুরক্ষার জন্যই আইনটি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যদের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে দেন স্পিকার। এতে প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। পরে বিলটি পাসের জন্য প্রস্তাব করা হলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

টিএই/এএম