নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য মজুদ ও খাদ্যের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে দুর্যোগ বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত মজুদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। দেশের খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ আছে কি না, খাদ্যের গুণগত মান ঠিক আছে কি না এবং দুর্যোগের সময় মানুষের কাছে যথাসময়ে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, এসব বিষয় সবসময় বিবেচনায় রাখতে হবে। এজন্য নিরাপদ মজুদ ও খাদ্যের গুণগত মান দুটিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য অধিদপ্তরে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে আফরোজা খানম বলেন, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই-একজনের অনিয়মের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিনের অসম্পন্ন কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অনেক কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব একসঙ্গে সামনে এসেছে। প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব কাজ শেষ করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য গুদাম ও অবকাঠামোর দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুদামটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
দেশের অন্যান্য খাদ্য গুদাম ও স্থাপনার অবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী।
খাদ্য পরিদর্শক, ওসি-এলএসডিসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে তাদের কাজের মান, গুদামে খাদ্য মজুদের পরিমাণ ও গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সন্তুষ্টির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি। ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান খাদ্যমন্ত্রী।
কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের সঠিক তদন্ত করতে হবে এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তির শিকার না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে নিয়মিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবেন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা তাকে পাশে পাবেন। তবে সবাইকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে খাদ্য অধিদপ্তরকে আরও দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা খাদ্য অধিদপ্তরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।
এএইচ/এআরএম