নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
মেয়ের বিয়ের কাজে ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন ইসমাইল হোসেন (৫০) নামে জামালপুরের এক ব্যক্তি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টায় বনানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে মুখে স্কটটেপ লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সে সময় মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় আঙুলের ছাপ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার।
পুলিশ জানায়, ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় বসবাস করতেন এবং বেকার ছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পরনে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি ছিল।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, ইসমাইলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর কোনো একটি গাড়ি থেকে তার মরদেহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বনানী থানা পুলিশ এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ মনে করছে, এসব গাড়ি আটক করা সম্ভব হলে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিহতের ছেলে হাসান জানান, আমার বোনের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকায় এসে নিখোঁজ হন তার বাবা। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে জামালপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হন তিনি।
হাসান জানান, ‘রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাবা আমাকে ফোনে জানান, সকালে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন। আমার ছোট বোন শারমিনের বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত করতেই বাবা ঢাকায় আসছিলেন। এসেই দিন তারিখ ঠিক করার কথা ছিল।’
তিনি জানান, মেয়ের বিয়ের জন্য ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন ইসমাইল হোসেন। সেখান থেকে ২ লাখ টাকার ঋণ শোধ করেন। কিছু টাকা দিয়ে গ্রামে একটি ঘর দেন। আর ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে বিয়ের বাজার করতে ঢাকায় আসছিলেন। সঙ্গে একটি এন্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোনও ছিল। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের সময় সেসব পাওয়া যায়নি।
নিহতের ছেলে আরও জানান, ‘সকালে প্রথমে জিরানীতে আসার কথা ছিল বাবার। আমি জিরানীতে গিয়ে বাবাকে অনেকবার ফোন দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ফোন বন্ধ পাই। বনানী থানা থেকে আমাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর পুলিশ ফাঁড়িতে মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। সেখান থেকেই আমরা খবর পাই।’
নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ৯ মাস আগে ডেল্টা স্পিনিং মিলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন ইসমাইলে। অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ৫ মাস স্ত্রী ও দুই সন্তান এবং ছেলের বউকে নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে ছিলেন। ৪ মাস আগে গ্রামে ফিরে যান। সেখানে তার মা ও বড় বোন থাকেন।
এমএমআর/এএইচ