Dhaka Mail Logo

জাতীয়

টেকসই কর্মসংস্থান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর: মাহদী আমিন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

দেশে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি টেকসই, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। 

একই সঙ্গে শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলসের উদ্যোগে 'কাজের ভবিষ্যৎ: সকলের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষা' শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন। 

বৈশ্বিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে শিল্পকারখানার উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের সব ন্যায্য অধিকার সুরক্ষায় সরকার সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও‌ জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। একই সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে যেন কলকারখানা বন্ধ না হয়, সেজন্য মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও স্থিতিশীল শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

​প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আগামী দিনের সকল প্রতিকূলতা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যেন তাঁদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। কলকারখানা বন্ধ না রেখে কীভাবে সচল রাখা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

​সরকারের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কাজের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এ দেশের বিশাল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর পাশে থাকা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মালিক ও শ্রমিকের স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে একটি টেকসই শিল্প পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

​সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন-'করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।' এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি আমাদের সরকার পরিচালনার মূল স্পিরিট। শ্রমিক ও মালিক যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন এবং ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সব অংশীজনকে এক ছাতার নিচে আনা যাবে, তখনই বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা গতি পাবে।

​বর্তমান সরকারকে শতভাগ জনবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন আশ্বাস দেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং সেই জনগণের বড় অংশই শ্রমজীবী মানুষ। সরকারে ও সংসদে জনপ্রতিনিধিরা সবসময় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে এবং দেশের সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, এমন এক ওয়ার্কিং ইকোসিস্টেম আমরা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কর্মক্ষেত্র হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই-দেশের ভেতরেও যেমন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ঠিক তেমনি।

​দেশের অর্ধেকেরও বেশি নারী জনগোষ্ঠীর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নারীদের ক্ষমতায়ন আরও সুদৃঢ় করতে সরকার 'ফ্যামিলি কার্ড স্কিম'-এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও পারিবারিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত ডে-কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কার্যকর করা হচ্ছে।

​দায়বদ্ধতা, সুশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান  উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। 

তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শ্রমিকদের জন্য সাম্য, ন্যায্যতা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। 

​সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা সবাই এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যা প্রকৃত অর্থেই দায়বদ্ধ এবং যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য- দেশের শ্রমিক ভাই-বোনসহ সব শ্রেণি ও স্তরের মানুষের জন্য সাম্য, ন্যায্যতা এবং সুবিচার নিশ্চিত করা।

​জনগণের কল্যাণ সাধনকেই একটি নির্বাচিত সরকারের প্রধান ম্যান্ডেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নির্বাচিত এই সরকার শ্রম অধিকার সুরক্ষায় সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। 

​সরকারের বিগত সাত মাসের কাজের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, গত সাত মাসে সরকারের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষা, বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূলবোধ ও জবাবদিহিতার এই ধারা অব্যাহত রাখাই নির্বাচিত এই সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।  

শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, সামাজিক সুবিচার এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, দেশের শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

​মাহ্দী আমিন বলেন, আজ আমরা যে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি, তা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে এবং এই জনসমর্থনের পেছনে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ।

​নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, নির্বাচন পরিচালন কমিটির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন কীভাবে দল থেকে সবসময় শ্রমিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

​মাহ্দী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনি পথযাত্রায় বারবার বলেছেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শ্রমিক, মালিক এবং দেশের সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দেশকে নতুন করে গড়ে তুলবেন।

দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীদের অবদান নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ, ডে-কেয়ার সুবিধা এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড স্কিম’-এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

​আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী এই উপদেষ্টা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল-গ্যাসের যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব দেশের শিল্পখাতেও পড়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বন্ধ থাকা কলকারখানা চালু করা, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং উৎপাদন সচল রাখতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

​শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, অতীতে ঈদের সময় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে যে সংকট তৈরি হতো, বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে গত দুটি ঈদে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হলেও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দেশীয় শিল্প ও কলকারখানা সচল রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও জ্বালানি সংকট দূর করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা সফল হচ্ছে।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক‌ ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান: মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ সহ শ্রমিক নেতারা।

বিইউ/এআরএম