জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে দেশে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫৭১৭টি। এর মধ্যে ১৩৫৭৯ শিশু উদ্ধার হয়েছে অথবা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি ২০৩৮ শিশুর।
গণমাধ্যমে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি যাচাই করে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ৪৭৪, উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন, উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।
একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩, উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৩ জন, উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। অর্থাৎ এ সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ নিখোঁজ শিশুর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজের শতকরা ১৩ ভাগ।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশিত সংবাদসমূহে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা অর্থাৎ নিখোঁজ শিশুদের কতজন উদ্ধার হয়েছে বা নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে—এ সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
শিশু নিখোঁজ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি নিরসন এবং অধিকতর স্পষ্টীকরণের লক্ষ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেছে।
নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা যায়, শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথঘাট ভুলে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের নাম ঠিকানা বলতে না পারা এবং একাকি বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য স্থানে চলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে নিখোঁজ হয়।
আবার ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা অভিমান করে, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবন-যাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনও সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব ইত্যাদি কারণে নিখোঁজ হয়।
বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হয়েছে। ফলে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নিখোঁজ জিডি হয়েছে ১৭ হাজার ৮০৮, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০।
এমআইকে/এআরএম