নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ধর্ম, বর্ণ ও জাতি কোনো কিছুই নারীর সমঅধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হওয়া উচিত নয়। নারীর পূর্ণ সমতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সিডও দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ চলাচল, নিরাপদ জীবনযাপন এবং অন্যায়ের শিকার হলে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারীর উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তিনি নিরাপদে চলাচল ও জীবনযাপন করতে পারবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশেষ করে পোশাকশিল্পে কর্মরত লাখ লাখ নারী দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছেন। নারী কূটনীতিকরাও দেশে-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষিকাজ ও গৃহস্থালি কাজসহ পরিবারের জন্য নারীরা অনেক অবদান রাখলেও তাঁদের হাতে সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা থাকে না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি নারীর হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নারীরা পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি সংকটের সময় অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।
নারীর নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা হলেও এ ধরনের উদ্যোগ শুরু করা প্রয়োজন। কারণ নারীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে তাঁর নিরাপদ চলাচল ও জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, সম্প্রতি শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১৯ দিনের মধ্যে রায় দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলাতেও আট কর্মদিবসে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়েছে। তবে লক্ষ্য শুধু আলোচিত কয়েকটি মামলার দ্রুত বিচার নয়, প্রতিটি নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা।
রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিষয়টি শুধু রাষ্ট্র বা সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য সামাজিক পরিবর্তনও প্রয়োজন।
সিডও সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সিডও সনদের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার রয়েছে। বাংলাদেশ নিয়মিত সিডও কমিটির কাছে বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন দিয়ে আসছে। আগামী বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন পর্যালোচনা হবে। সেখানে দেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতের করণীয় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, সিডও শ্যাডো রিপোর্ট প্রণয়নের উদ্যোগকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের স্বাধীন ও গঠনমূলক মূল্যায়ন সরকারের অর্জন ও ঘাটতি বুঝতে সহায়তা করবে। সরকার ও নাগরিক সমাজের ভারসাম্যপূর্ণ ও অংশীদারত্বমূলক প্রচেষ্টা সিডও সনদ বাস্তবায়নকে আরও শক্তিশালী করবে।
সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও জাতি কোনো কিছুই নারীর সমঅধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হওয়া উচিত নয়। মহিলা পরিষদের দাবিগুলো তিনি সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মহিলা পরিষদকে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। এ বিষয়ে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করার কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি ও দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সালমা আলীসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
এএইচ/এআর