নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪১ এএম
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে বর্তমান সরকারের তৈরিকৃত আইনকে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের চেয়ে শক্তিশালী করা হয়েছে বলে মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের। এই আইনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদে মানবাধিকার কমিশন বিল সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: গুম প্রতিরোধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে যাওয়ারও বিধান ছিল। তবে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারকে অনেক ভোগান্তির পর মামলা করতে হতো। নতুন আইনে গুমের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারকে সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ বা জোরপূর্বক গুমের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এখতিয়ারে আগের মতোই রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিচার আইসিটি কোর্টেই চলবে। পাশাপাশি গুমের অন্যান্য ধরনও নতুন আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘এ আইনে গুমের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দায় যার ওপর বর্তাবে, তার সম্পত্তি না থাকলেও ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর দায় বর্তানোর বিধান রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তার বিধানও রাখা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: দুই বছরে গুম প্রতিরোধে কতটা বদলেছে বাংলাদেশ?
জামায়াতে ইসলামীর এমপি ব্যারিস্টার আরমানের স্বাধীন তদন্ত সংস্থা গঠনের বক্তব্যের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা প্রয়োজন। মানবাধিকার কমিশনের আইনে কোথাও বিনা নোটিশে পরিদর্শনে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নেই। গুমের শিকার কোনো ব্যক্তিকে খুঁজতে মানবাধিকার কমিশন বিনা নোটিশে কোথাও যেতে চাইলে সেই সুযোগ আইনে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীন তদন্ত সংস্থা হিসেবে মানবাধিকার কমিশন গুমের বিষয়ে তদন্ত করতে পারবে। তবে আদালতে গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রস্তাবিত আইনে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।’
আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনমন্ত্রী মানবাধিকার কমিশন আইনটি সংসদে আনার আগে কয়েক মাস সময় নিয়েছেন। এ সময়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করা হয়েছে। বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, ইউএনডিপি, মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: গুম প্রতিরোধ বিল সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত, ২ সদস্যের ওয়াকআউট
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যতটুকু অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব, তা করেছি। বাকি আলোচনা সংশোধনের সময় করা যাবে।’
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে ২০২৫ সালে একটি অধ্যাদেশ জারি করে তৎকালীন অন্তর্র্বতী সরকার। বর্তমান সরকার সেটির সংশোধন ও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
এএইচ